ভালো মানের হেয়ার স্ট্রেটনার চেনার উপায়

ভালো মানের হেয়ার স্ট্রেটনার চেনার উপায়

অফিস বা বাইরে বের হওয়ার আগে চুলটা সেট করতে স্ট্রেটনার হাতে নিলেন, কিন্তু সেটা ঠিকমতো গরম হচ্ছে না। আবার কখনো গরম হলেও চুল সেট হওয়ার বদলে আরও রুক্ষ ও শুষ্ক লাগছে। এমন সমস্যার কারণ অনেক সময় চুল নয়, বরং আপনার  ব্যবহৃত স্ট্রেটনার।

বাজারে অসংখ্য হেয়ার স্ট্রেটনার থাকলেও সবগুলো চুলের জন্য নিরাপদ নয়। ভুল স্ট্রেটনার ব্যবহার করলে চুল রুক্ষ, ভঙ্গুর এমনকি দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্তও হতে পারে। তাই ভালো মানের হেয়ার স্ট্রেটনার চেনার উপায় জানা খুবই জরুরি।

তাহলে কোন বিষয়গুলো দেখে বুঝবেন একটি স্ট্রেটনার সত্যিই ভালো মানের? প্লেটের ধরন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও সেফটি ফিচারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানলেই সঠিক স্ট্রেটনার বেছে নেওয়া অনেক সহজ হয়ে যাবে। 

প্লেট কী দিয়ে বানানো, সেটা আগে দেখুন

স্ট্রেটনারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এর প্লেট, কারণ চুল সরাসরি এই প্লেটের সাথেই স্পর্শ হয়। তাই প্লেটের মান খারাপ হলে চুলের ক্ষতি হওয়া স্বাভাবিক।

নিচে বিভিন্ন প্লেট নিয়ে আলোচনা করা হলো:

  • সিরামিক প্লেট সবচেয়ে বেশি পরিচিত এবং প্রায় সব জায়গায় পাওয়া যায়। তাপ পুরো প্লেটে সমানভাবে ছড়ায়, তাই চুল পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কম। পাতলা বা হালকা ঢেউ খেলানো চুলের জন্য এটি উপযুক্ত।

তবে “সিরামিক প্লেট” আর “সিরামিক কোটেড প্লেট” এক নয়। কোটেড প্লেটে উপরে পাতলা সিরামিক লেয়ার, ভেতরে অ্যালুমিনিয়াম। ব্যবহারে লেয়ার উঠে যায়, অ্যালুমিনিয়াম বের হয়, চুলের ক্ষতি শুরু হয়। কেনার আগে প্যাকেট দেখুন বা বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করুন ,ফুল সিরামিক, নাকি শুধু কোটেড।

  • টরমালিন সিরামিক প্লেট সিরামিকের উপর টরমালিন নামের একটা খনিজের পরত দেওয়া থাকে, যার কাজ হলো চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখা। ফলে কম তাপেই সহজে চুল সোজা করা যায়। তাই যাদের চুল একটু দুর্বল বা সহজে ভেঙে যায়, তাদের জন্য এটা বেশ নিরাপদ একটা অপশন।
  • টাইটানিয়াম প্লেট  খুব দ্রুত গরম হয় এবং কম সময়েই চুল সোজা করে ফেলে। কিন্তু এটা একটু কড়া টাইপের, তাই পাতলা বা রঙ করা চুলের জন্য খুব একটা উপযোগী না। তবে যাদের চুল ঘন আর বেশি কোঁকড়া, তাদের জন্য এটা কাজে দেয়।
  • এলুমিনিয়াম প্লেট তাপ এখানে অসমভাবে ছড়ায়, ফলে কিছু জায়গা বেশি গরম হয়ে যায় এবং চুল ভাঙা, আগা ফাটা, এমনকি পুড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে। তাই সাময়িক টাকা বাঁচানোর জন্য এই প্লেট কিনলে পরে চুলের যত্নেই বেশি খরচ হয়ে যেতে পারে।

চুলের লেন্থ আর ঘনত্ব বুঝে প্লেটের সাইজ নিন

যাদের চুল লম্বা এবং ঘন, তাদের জন্য চওড়া প্লেটের স্ট্রেটনার বেশি ভালো। কারণ এক টানেই বেশি চুল কভার হয়ে যায়, ফলে কম সময়ে কাজ শেষ হয় এবং চুল বারবার তাপের সংস্পর্শে আসার দরকার হয় না।

আবার যাদের চুল ছোট, পাতলা, বা যারা শুধু সামনের অংশ বা ব্যাংস স্টাইল করতে চান, তাদের জন্য চিকন প্লেটই বেশি সুবিধাজনক। কারণ এতে ছোট অংশ নিয়ে কাজ করা সহজ হয়, আর হাত থেকে পিছলে যাওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে।

তাপমাত্রা কন্ট্রোল করার অপশন আছে কিনা দেখুন

কিছু স্ট্রেটনারে তাপমাত্রা ফিক্সড থাকে, অন করলেই সর্বোচ্চ তাপে চলে যায়, যা সব ধরনের চুলের জন্য ক্ষতিকর। ভালো স্ট্রেটনার কিনতে হলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের অপশন দেখে নিন। পাতলা বা ক্ষতিগ্রস্ত চুলে কম তাপই যথেষ্ট, ঘন ও কোঁকড়া চুলে তুলনামূলক বেশি তাপ লাগতে পারে।

এক তাপমাত্রা সবার জন্য কাজ করে না। নিজের চুল অনুযায়ী তাপ নির্ধারণ করা গেলে স্ট্রেটনিং হয় নিরাপদ।

হিট আপ টাইমিং

ভালো স্ট্রেটনার ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিটে গরম হয়, তাপও ধরে রাখে। নিম্নমানেরটা গরম হতে দেরি করে, ব্যবহারের সময় তাপ ওঠানামা করে, কখনো অতিরিক্ত গরম। ফলে চুলে একই জায়গায় বারবার চাপ দিতে হয়। তাই কেনার আগে রিভিউ দেখুন। 

অটো শাট-অফ ফিচার আছে কিনা দেখুন

এটা মূলত সেফটি ফিচার। ধরুন স্ট্রেটনার অন করে রেখে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলেন, বন্ধ করতে ভুলে গেলেন। এই অবস্থায় যদি স্ট্রেটনারে অটো শাট-অফ থাকে, তাহলে একটা নির্দিষ্ট সময় পর এটা নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে।

এটা শুধু সুবিধার জন্য না, বরং দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্যও জরুরি। ভালো ব্র্যান্ডের স্ট্রেটনারে এই ফিচার থাকে।

৩৬০° সুইভেল কর্ড আছে কিনা যাচাই করুন 

স্ট্রেটনারের তার ৩৬০ ডিগ্রি ঘোরে কিনা দেখা জরুরি। ভালো মানের স্ট্রেটনারে সাধারণত ১.৫ থেকে ২ মিটার বা তার বেশি লম্বা তার থাকে, যা চুল স্টাইল করার সময় নড়াচড়ার পর্যাপ্ত সুবিধা দেয়। তার অবশ্যই তাপসহনশীল হতে হবে, না হলে গরম প্লেটের কাছে গেলে গলে যাবে। গোড়ার সংযোগ দুর্বল হলে তার তাড়াতাড়ি নষ্ট হয় আর বিদ্যুৎ বিপদও হতে পারে।

ব্র্যান্ড এবং ওয়ারেন্টির দিকে খেয়াল রাখুন

স্ট্রেটনার এর সেফটি স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া উচিত না। পরিচিত ও ভরসাযোগ্য ব্র্যান্ড বেছে নিন, যাতে সমস্যায় ওয়ারেন্টির সুবিধা পাওয়া যায়।

অপরিচিত ব্র্যান্ডের অস্বাভাবিক কম দামের স্ট্রেটনার দেখলে সতর্ক থাকুন। এসব পণ্যে প্রায়ই সেফটি সার্টিফিকেশন থাকে না, ফলে শর্ট সার্কিট বা অতিরিক্ত গরম হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

দাম দেখে নয়, প্রয়োজন দেখে কিনুন

আপনার চুলের ধরন, লেন্থ, এবং কত নিয়মিত আপনি স্ট্রেটনার ব্যবহার করবেন, এই বিষয়গুলো বিচার করে কেনা উচিত। প্রতিদিন ব্যবহার করলে বেশি বাজেটে ভালো প্লেটের স্ট্রেটনার নেওয়া দরকার, কারণ চুলের ক্ষতি কম হবে আর টেকসইও বেশি হবে। মাঝে মাঝে ব্যবহার করলে মাঝারি বাজেটের ভালো ব্র্যান্ডই যথেষ্ট। 

উপসংহার

একটি ভালো মানের হেয়ার স্ট্রেটনার শুধু চুল সোজা করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে চুলের স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত রাখে। তাই কেনার আগে প্লেটের মান, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, সেফটি ফিচার এবং ব্র্যান্ড সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। সঠিক স্ট্রেটনার নির্বাচন করলে স্টাইলিং হবে সহজ, আর চুলও থাকবে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর। আর হ্যাঁ, যদি অরিজিনাল ব্র্যান্ড বা ভালো মানের হেয়ার স্ট্রেটনার খুঁজে থাকেন তাহলে, Apple Gadgets এ ভিজিট করতে পারেন।

Similar Posts