কম্পিউটারের মনিটর দ্রুত ময়লা হওয়ার কারণ ও সমাধান

কম্পিউটারের মনিটর দ্রুত ময়লা হওয়ার কারণ ও সমাধান!

আমরা দিনের অনেকটা সময় কম্পিউটারের সামনে কাটাই। কাজ, পড়াশোনা কিংবা বিনোদন, সবকিছুতেই মনিটর ব্যবহার করি। নিয়মিত পরিষ্কার না করলে স্ক্রিনে ধুলা, আঙুলের ছাপ ও বিভিন্ন ধরনের দাগ জমে যায়। এতে ধীরে ধীরে স্ক্রিনের স্বচ্ছতা কমে যায়।

সঠিকভাবে মনিটর পরিষ্কার করলে স্ক্রিনে ময়লা কম জমবে। পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে মনিটর দীর্ঘদিন ভালো রাখাও সহজ হবে।

বেশি ময়লা জমলে স্ক্রিনের লেখা ও ছবি দেখতে অস্বস্তি হতে পারে। তাই মনিটর কেন দ্রুত ময়লা হয় এবং কীভাবে সহজে এটি পরিষ্কার ও ভালো রাখা যায়, তা জানা জরুরি।

কম্পিউটারের মনিটর দ্রুত ময়লা হওয়ার কারণ কী?

মনিটর দ্রুত ময়লা হওয়ার পেছনে ধুলাবালির পাশাপাশি আমাদের দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসও দায়ী। চলুন, দেখে নেওয়া যাক কেন মনিটর দ্রুত ময়লা হয়।

ঘরে অতিরিক্ত ধুলাবালি

ঘরে ধুলাবালি বেশি থাকলে বাতাসের সঙ্গে সেই ধুলোকণা মনিটরের স্ক্রিনে জমা হতে থাকে। বিশেষ করে খোলা জানালার পাশে মনিটর রাখলে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। এছাড়া, ফ্যান চলার সময় ডেস্কে জমে থাকা ধুলা বাতাসে ছড়িয়ে স্ক্রিনে জমে। 

মনিটর স্ক্রিনে হাত দেওয়া

অনেকে কোনো কিছু দেখানোর সময় সরাসরি স্ক্রিনে আঙুল দেন। এই অভ্যাসের ফলে হাতের ময়লা এবং ঘাম স্ক্রিনে দাগ তৈরি করে। বারবার হাত দেওয়ার ফলে সেসব দাগ দ্রুত বাড়তে থাকে। 

মনিটরের কাছাকাছি খাবার ও পানীয় রাখা

অনেকের কাছে কম্পিউটারে কাজ করার সময় পাশে খাবার বা পানীয় রাখা একটি সাধারণ অভ্যাস। অসাবধানতায় খাবারের কণা বা পানীয় স্ক্রিনে পড়তে পারে। বিশেষ করে মিষ্টি পানীয় পড়লে শুকিয়ে আঠালো দাগ তৈরি হয়।

দীর্ঘদিন মনিটর পরিষ্কার না করা

প্রতিদিন অল্প অল্প করে মনিটরে ধুলা জমা হয়।এভাবে দীর্ঘ সময় পরিষ্কার না করলে ধুলার সঙ্গে অন্যান্য ময়লা মিশে দাগ তৈরি হয়। খন এগুলো পরিষ্কর করা বেশ কষ্টকর হয়ে উঠে। সুতরাং, স্ক্রিনে ময়লা দেখলে দ্রুত পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। এতে ময়লা জমে দাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমবে।

মনিটরের চারপাশে অযথা জিনিস রাখা

মনিটরের চারপাশে যদি বই, কাগজ, কাপড় বা অন্যান্য জিনিস বেশি থাকে, তাহলে সেগুলোতেও ধুলা জমে যায়। এবং এই জিনিসগুলি নাড়াচাড়ার সময় সেই ধুলা স্ক্রিনের উপরে পড়তে পারে। 

এই কারণে, মনিটরের চারপাশটিকে যতটা সম্ভব পরিষ্কার এবং গুছিয়ে রাখতে চেষ্টা করুন।

মনিটর পরিষ্কার করার সঠিক পদ্ধতি কী?

মনিটর বন্ধ করে পরিষ্কার করুন: মনিটর পরিষ্কার করার আগে অবশ্যই সেটি বন্ধ করে নিন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখুন। কারণ মনিটর বন্ধ করলে পরিষ্কার করার সময় স্ক্রিনে ধুলা ও দাগ সহজে দেখা যাবে।

নরম কাপড়ের ব্যবহার করুন: মনিটরের স্ক্রিন মুছতে নরম ও পরিষ্কার মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করুন। ব্যবহারের আগে কাপড়ে কোনো শক্ত কণা আছে কি না দেখে নিন। এতে স্ক্রিনে ঘষা লাগার ঝুঁকি কমবে।

স্ক্রিনে সরাসরি তরল ব্যবহার করবেন না: মনিটরের স্ক্রিনের উপর সরাসরি পানি বা কোনো ক্লিনিং তরল স্প্রে করা থেকে বিরত থাকুন। এসকল তরল স্ক্রিনের ভেতরে ঢুকে গেলে মনিটরের ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, একটি কাপড়ে সামান্য পরিমাণ উপযুক্ত ক্লিনার লাগিয়ে ব্যবহার করুন। 

হালকা হাতে স্ক্রিন পরিষ্কার করুন: স্ক্রিন পরিষ্কার করার সময় মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে অল্প চাপ প্রয়োগ করে মুছুন। অতিরিক্ত চাপ দিলে স্ক্রিনের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়তে পারে। কোনো দাগ সহজে না উঠলে জোরে ঘষবেন না। প্রয়োজনে উপযুক্ত ক্লিনার ব্যবহার করে ধীরে ধীরে দাগটি পরিষ্কার করুন।

মনিটর কোথায় রাখলে ধুলা কম জমবে?

মনিটর এমন স্থানে রাখতে হবে, যেখানে বাইরে থেকে সরাসরি ধুলা আসার সম্ভাবনা নেই।  জানালা বা দরজার কাছাকাছি না রাখাই উত্তম, কারণ এসব স্থানে বাইরে থেকে সহজেই ধুলা ঘরে প্রবেশ করতে পারে। এছাড়াও, ফ্যানের বাতাস যদি সরাসরি মনিটরের দিকে যায়, তবে সেটিও ধুলাকে স্ক্রিনে নিয়ে আসতে পারে।

তাই কম্পিউটারের জন্য এমন স্থান নির্বাচন করুন যা তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার এবং কম ধুলাবালি রয়েছে। এতে মনিটরকে নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ঝামেলাও কমবে।

মনিটর কতদিন পর পর পরিষ্কার করা উচিত?

মনিটর কতদিন পর পর পরিষ্কার করবেন তা মূলত আপনার ঘরের পরিবেশ এবং ব্যবহারের উপর নির্ভর করে। যদি আপনার ঘরে ধুলাবালি বেশি থাকে, তবে প্রতি সপ্তাহে একবার মনিটরের স্ক্রিন পরিষ্কার করা ভালো। তবে স্ক্রিনে ধুলা বা দাগ দেখা গেলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে তখনই পরিষ্কার করুন।

আরও পড়ুনঃ মনিটর কেনার আগে যেসকল বিষয় খেয়াল রাখবেন

মনিটর দীর্ঘদিন পরিষ্কার রাখতে কার্যকরী ৫টি টিপস:

১. নিয়মিত মনিটরের ধুলা পরিষ্কার করুন

বিভিন্ন কারণে মনিটরের স্ক্রিনে ধুলা জমতে পারে। । তাই, নরম মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করে মনিটরের স্ক্রিন এবং মনিটরের নিচের অংশ পরিষ্কার করুন। স্ক্রিন পরিষ্কারের সময় অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকুন।

২. মনিটরের চারপাশ পরিষ্কার রাখুন  

মনিটরের আশেপাশের ডেস্কে ধুলা ও ময়লা জমলে সেগুলি মনিটরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই, মনিটরের চারপাশের স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। এতে মনিটরের উপর ধুলা জমার পরিমাণও কমবে।

৩. মনিটরের কাছে খাবার ও পানীয় রাখবেন না

মনিটরের নিকটে খাবার বা পানীয় রাখলে অসাবধানবশত তরল পদার্থ মনিটরের উপর পড়ে যেতে পারে। এটি মনিটরের স্ক্রিন অথবা ভেতরের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই, খাবার ও পানীয় মনিটরের থেকে দূরে রাখুন।

৪. মনিটরের স্ক্রিনে হাত দেবেন না

স্ক্রিনে আঙুলের ছাপ ও তেল লেগে গেলে ধুলা সহজে আটকে যেতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে স্ক্রিনে হাত দেওয়া বা চাপ দেওয়া এড়িয়ে চলুন। 

৫. মনিটর সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখুন

মনিটর এমন জায়গায় রাখুন, যেখানে সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে না। দীর্ঘ সময় সরাসরি সূর্যের আলো পড়লে মনিটরের ক্ষতি হতে পারে। তাই যদি জানালার পাশে রাখতে হয়, তাহলে পর্দা ব্যবহার করুন। 

মনিটর পরিষ্কার রাখার উপকারিতা কী?

পরিষ্কার মনিটরে লেখা, ছবি এবং ভিডিও স্পষ্টভাবে দেখা যায়। স্ক্রিনে ধুলা ও আঙুলের ছাপ কম থাকলে কাজের সময় দাগ কম চোখে পড়ে। এছাড়া পরিষ্কার কম্পিউটার সেটআপ দেখতে গোছানো লাগে। 

নিয়মিত মনিটর পরিষ্কার রাখলে কাজের পরিবেশও থাকে সুন্দর ও গোছানো।

Similar Posts