এসির কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে ৫টি টিপস

এসির কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে ৫টি টিপস

গরমের দিনে এসি চালু করলেন, কিন্তু ঘর ঠান্ডা হচ্ছে না, এর চেয়ে বিরক্তিকর অনুভূতি আর কী হতে পারে? ফ্যান চালালেন, জানালা বন্ধ করলেন, তবুও ঘরে যেন গরম ভাপ ঘুরছে। আর মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল দেখে তো মাথায় হাত!

অনেকেই তখন ভাবেন, হয়তো এসি নষ্ট হয়ে গেছে বা ক্ষমতা কমে গেছে। কিন্তু বাস্তবে সমস্যাটা বেশিরভাগ সময় এসির না, সমস্যা আমাদের কিছু ছোট ছোট অভ্যাসে।

অপরিষ্কার ফিল্টার, ভুল তাপমাত্রা সেট করা, দরজা-জানালা খোলা রাখা, এই সাধারণ ভুলগুলোই এসির কার্যক্ষমতা অনেক কমিয়ে দেয়। ফলে ঘর ঠিকমতো ঠান্ডা হয় না, কিন্তু বিদ্যুৎ বিল ঠিকই আসে ।

সমাধান নতুন এসি কেনা না, মাত্র ৫টি সহজ অভ্যাস বদলালেই আপনার পুরনো এসি আবার আগের মতো কাজ করবে, ঘর ঠান্ডা হবে দ্রুত, আর বিলও থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

১. সঠিক তাপমাত্রা সেট করুন – না বেশি গরম, না বেশি ঠান্ডা

এসি চালু করে অনেকে সরাসরি ১৬-১৮ ডিগ্রিতে নামিয়ে দেন। মনে হয় যত কম তাপমাত্রা দেব, তত তাড়াতাড়ি ঘর ঠান্ডা হবে। 

কিন্তু  তাপমাত্রা কমালেই দ্রুত ঠান্ডা হয় না, বরং কম্প্রেসারের উপর চাপ বাড়ে, বিদ্যুৎ খরচ বাড়ে, আর দীর্ঘমেয়াদে এসির ক্ষতি হয়।

Bureau of Energy Efficiency (BEE)-এর গাইডলাইন অনুযায়ী, ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলো সবচেয়ে আদর্শ তাপমাত্রা। এই রেঞ্জে এসি সবচেয়ে দক্ষভাবে কাজ করে এবং আপনার শরীরও কম্ফোর্টেবল থাকে।

২৪ ডিগ্রির নিচে প্রতিটা ডিগ্রি কমালে বিদ্যুৎ খরচ প্রায় ৬% বেড়ে যায়। সারাদিন ১৮ ডিগ্রিতে এসি চালালে আপনার বিলও বেশি আসবে এবং AC-এর উপরও প্রেসার পড়বে।

তাই তাপমাত্রা ২৪-২৫ এ রাখুন। প্রথম দিকে একটু অস্বস্তি লাগলেও ধীরে ধীরে আরাম অনুভূত হবে।

২. ফিল্টার পরিষ্কার রাখুন

এসির ভেতরে একটা ফিল্টার থাকে যেটা বাতাসের ধুলো-ময়লা আটকায়। এই ফিল্টারে ময়লা জমে গেলে বাতাসের প্রবাহ কমে যায়, তখন এসিকে বেশি কষ্ট করতে হয়, এবং কুলিং পাওয়ার কমে যায়।

ময়লা ফিল্টার এসির বিদ্যুৎ খরচ ১৫% পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। অর্থাৎ আপনি বেশি টাকা দিবেন, কিন্তু ঠান্ডা পাবেন কম। গরমের মৌসুমে প্রতি দুই সপ্তাহে অন্তত একবার ফিল্টার পরিষ্কার করা উচিত। ধুলো বেশি এমন জায়গায় থাকলে সপ্তাহে একবার চেক করুন। পরিষ্কার করার পদ্ধতি খুবই সহজ, ফিল্টার বের করুন, ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে শুকান, তারপর আবার লাগিয়ে দিন।

আরও পড়ুন- এসি টন বলতে কি বুঝায়?

৩. ঘর সিল করুন – ঠান্ডা বাতাস যেন বের না হয়

এসি চলছে, কিন্তু দরজা-জানালার ফাঁক দিয়ে বাইরের গরম বাতাস ঢুকছে। এই অবস্থায় এসি যত কষ্টই করুক, ঘর কিছুতেই দ্রুত ঠান্ডা হবে না।

এসি চালানোর সময় কয়েকটা জিনিস নিশ্চিত করুন,

  • দরজা-জানালা ভালো করে বন্ধ রাখুন, বারবার দরজা খোলা-বন্ধ করলে ঠান্ডা বাতাস বের হয়ে যায়।
  • পর্দা ব্যবহার করুন। সরাসরি রোদ ঘরে ঢুকলে ঘর গরম হয়ে যায়। মোটা পর্দা দিয়ে রোদ আটকানো গেলে এসির কাজ অনেকটা কমে যায় এবং ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয়।
  • জানালার ফাঁক সিল করুন। পুরনো বাড়িতে জানালার চারপাশে ছোট ফাঁক থাকে। এগুলো দিয়ে ধীরে ধীরে গরম বাতাস ঢোকে। Weather stripping বা সিলান্ট দিয়ে এই ফাঁকগুলো বন্ধ করুন।

৪. স্মার্ট ফিচার ব্যবহার করুন 

আধুনিক এসিতে বেশ কিছু ফিচার থাকে যেগুলো বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে এবং কুলিং আরও কার্যকর করে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ রিমোটের শুধু অন-অফ আর তাপমাত্রার বাটন ব্যবহার করেন। নিচের স্মার্ট ফিচারগুলো ব্যবহার করে আপনি আরো ভালো সার্ভিস পেতে পারেন: 

  • Sleep Mode: রাতে ঘুমানোর পর শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়। Sleep mode স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাপমাত্রা একটু বাড়িয়ে দেয় যেন ওভার-কুলিং না হয়। এতে ঘুমও ভালো হয়, বিদ্যুৎও সাশ্রয় হয়।
  • Timer: ঘুমানোর আগে ২-৩ ঘণ্টার টাইমার সেট করুন। ঘর ঠান্ডা হয়ে গেলে এসি নিজেই বন্ধ হয়ে যাবে। সারারাত এসি চালিয়ে রাখার দরকার নেই।
  • Eco Mode বা Auto Mode: এই অপসন চালু রাখলে বাইরের তাপমাত্রার সাথে তাল মিলিয়ে এসির কম্প্রেসার নিজেই অ্যাডজাস্ট করে। মাঝারি গরমের দিনে এই মোড ব্যবহার করলে অনেক বিদ্যুৎ বাঁচে।

আরও পড়ুন- এসি চালানোর সঠিক নিয়ম

৫. নিয়মিত সার্ভিসিং করান 

এসি একটা যন্ত্র। যন্ত্রের যত্ন না নিলে সে ঠিকমতো কাজ করবে না, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু অনেকেই সার্ভিসিংয়ের কথা মনে করেন শুধু যখন এসি একদম কাজ করা বন্ধ করে দেয়।

বছরে অন্তত একবার, গরমের মৌসুম শুরু হওয়ার আগে, একজন দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে এসি সার্ভিস করান। এই সার্ভিসিংয়ে কী কী দেখা হয়?

  • গ্যাস লেভেল চেক করা
  • কনডেন্সার কয়েল পরিষ্কার করা
  • ফ্যান ও ব্লোয়ার চেক করা
  • থার্মোস্ট্যাট ক্যালিব্রেশন
  • ইলেকট্রিক্যাল কানেকশন পরীক্ষা

নিয়মিত সার্ভিসিং এসির কার্যক্ষমতা ১০ থেকে ১৫% পর্যন্ত বাড়াতে পারে এবং এসির আয়ুষ্কালও বৃদ্ধি করে। বছরে একবার সার্ভিসিং-এ খরচ করে আপনি অনেক বছর নতুন এসি কেনার ঝামেলা থেকে বেঁচে যেতে পারেন।

পরিশেষে

এসি ঠান্ডা করছে না মানেই যে এসি খারাপ হয়ে গেছে, সেটা না। বেশিরভাগ সময় কিছু ছোট ছোট অবহেলাই এর কারণ।

সঠিক তাপমাত্রা, পরিষ্কার ফিল্টার, বন্ধ ঘর, স্মার্ট ফিচারের ব্যবহার, আর নিয়মিত সার্ভিসিং এই পাঁচটা অভ্যাস গড়ে তুললেই দেখবেন এসি আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকরভাবে কাজ করছে, আর বিদ্যুৎ বিলটাও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আছে।

আপনি যদি ওয়ারেন্টি এবং আফটার সেলস সার্ভিসসহ ভালো মানের এসি খুঁজে থাকেন, তাহলে Apple Gadgets ভিজিট করতে পারেন। এখানে বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের আধুনিক মডেল পাওয়া যায়, যা আপনি আপনার প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী সহজেই বেছে নিতে পারবেন। 

সাধারণ প্রশ্নাবলি

প্রশ্ন ১: এসি কত ডিগ্রিতে রাখলে সবচেয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়? +
অনেকেই মনে করেন তাপমাত্রা যত কম দেবেন, ঘর তত তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হবে। আসলে বিষয়টি তা নয়। ২৪–২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসি সবচেয়ে দক্ষভাবে কাজ করে। এর নিচে দিলে বিদ্যুৎ খরচ বাড়ে, কিন্তু ঠান্ডার তেমন পার্থক্য হয় না।
প্রশ্ন ২: কতদিন পরপর এসির ফিল্টার পরিষ্কার করা উচিত? +
গরমের মৌসুমে প্রতি দুই সপ্তাহে একবার ফিল্টার পরিষ্কার করা উচিত। আপনার এলাকায় ধুলো বেশি হলে সপ্তাহে একবার চেক করা ভালো। ফিল্টার ময়লা থাকলে এসির বিদ্যুৎ খরচ ১৫% পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
প্রশ্ন ৩: বছরে কতবার এসি সার্ভিসিং করানো দরকার? +
বছরে অন্তত একবার এসি সার্ভিসিং করানো উচিত। আদর্শ সময় হলো গরম শুরু হওয়ার ঠিক আগে। নিয়মিত সার্ভিসিংয়ে এসির কার্যক্ষমতা ১০–১৫% পর্যন্ত বাড়ে এবং এটি দীর্ঘদিন ভালো থাকে।

Similar Posts