১৩০০০ থেকে ১৫০০০ টাকায় সেরা গেমিং ফোন

১৩০০০ থেকে ১৫০০০ টাকায় সেরা গেমিং ফোন: খেলা হবে সেরা পারফরম্যান্সে!

আপনি কি একজন প্যাশনেট গেমার? কিন্তু আপনার হাতে আছে মাত্র ১৩০০০-১৫০০০ হাজার টাকা। চিন্তা নেই আজকের ব্লগে আমি আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবো দামে কম কিন্তু মানে ভালো এমন স্মার্টফোন গুলোর সাথে যা আপনাকে দিবে বাজেটের মধ্যে সেরা অভিজ্ঞতা।

গেমিং স্মার্টফোন কিনতে গিয়ে বাজেট একটা বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু হ্যাঁ, আপনি যদি সঠিক ফোন নির্বাচন করতে পারেন তাহলে বাজেটের মধ্যেই আপনি পাবেন দুর্দান্ত গেমিং এক্সপেরিয়েন্স। যা ফোনের গ্রাফিক্স, প্রসেসর, ডিসপ্লে এবং ব্যাটারি লাইফ আপনাকে উন্নত গেমিং অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।

১৩০০০-১৫০০০ টাকার মধ্যে গেমিং ফোন বাজেটে আপনি পাবেন মিড-রেঞ্জ প্রসেসর, ৪জি/৫জি কানেক্টিভিটি, হাই রিফ্রেশ রেট ডিসপ্লে এবং বড় ব্যাটারি সব কিছু আপনার গেমিংয়ের অভিজ্ঞতা স্মুথ এবং ইন্টারেস্টিং করবে। এছাড়াও কিছু ফোনের মধ্যে গেমিং মোডও থাকবে যা পারফরম্যান্স আরও উন্নত করে।

যদি আপনি গেমিংয়ের জন্য একটি সাশ্রয়ী এবং ভালো ফোন খুঁজে থাকেন তবে আপনাকে সাহায্য করার জন্য আমি আছি।আপনাকে জানাবো ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে এমন ৫টি স্মার্টফোনের কথা যার কিছু দুর্দান্ত অপশন আপনাকে চমকে দিতে পারে। চলুন, এক নজরে দেখে নিন এই বাজেটে সেরা গেমিং ফোনগুলোর তালিকা!

Galaxy F06 5G 

ভালো দিক (Pros)খারাপ দিক (Cons)
বড় ডিসপ্লে যা গেমিংয়ের জন্য পারফেক্ট NFC সাপোর্ট নেই
ব্যাটারি ব্যাকআপ ভালো তাই দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা যায়

ব্লগের শুরুতে আমরা আলোচনা করবো Samsung এর Galaxy F06 5G ফোনটি নিয়ে কারণ যখনই বাজেট ফ্রেন্ডলি গেমিং ফোনের কথা আসে তখন Samsung এর নাম স্বাভাবিকভাবেই সামনে চলে আসে। সাধারণত গেইমারদের এমন ফোন দরকার যেটা লম্বা সময় গেম খেললেও ল্যাগ করে না এবং চোখে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করে না। আর ঠিক এই কারণেই এই ফোনটিতে রয়েছে বড় ৬.৭ ইঞ্চির উজ্জ্বল PLS LCD ডিসপ্লে যা গেমের প্রতিটা মুভ স্পষ্ট করে দেখায় তাই টানা গেইম খেললেও চোখের ক্ষতি  হয় না।

ফোনটির ভেতরে আছে MediaTek Dimensity 6300 প্রসেসর এবং অক্টা কোর CPU যাতে আপনি ফেভারিট গেমগুলো স্মুথভাবে খেলতে পারেন। এছাড়া আপনি যদি ভিন্ন ভিন্ন গেমের  এক্সপেরিয়েন্স নিতে চান তাহলে পর্যাপ্ত র‍্যাম সাপোর্ট এর কারনে আপনার ইচ্ছেমতো গেম সহজেই ডাউনলোড করে খেলতে পারবেন। যেহেতু দীর্ঘক্ষণ গেম খেলবেন তাই ব্যাটারির দিকটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ আর এই ফোনে রয়েছে ৫০০০ mAh এর বড় ব্যাটারি যা একবার চার্জে দীর্ঘ সময় গেম খেলার সুযোগ দেয় এবং ২৫W ফাস্ট চার্জিং, যার কারণে অল্প সময়েই আবার খেলায় ফিরতে পারবেন।  

গেমিং এর পাশাপাশি যদি ছবি তুলতে পছন্দ করেন তাহলে ৫০ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা এবং ৮ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা দিয়ে আপনি ডেইলি লাইফের সুন্দর মুহূর্তগুলো পরিষ্কার এবং ন্যাচারালভাবে ক্যাপচার করতে পারবেন । সব মিলিয়ে ১৫০০০ টাকায় Galaxy F06 5G একটি ভালো গেমিং ফোন।

  • বড় ও উজ্জ্বল ডিসপ্লে
  • স্মুথ পারফরম্যান্স
  • অসাধারন ক্যামেরা 

realme C71 – Official

Pros (ভালো দিক)Cons (খারাপ দিক)
120Hz রিফ্রেশ রেট গেমিংকে করে স্মুথ5G সাপোর্ট নেই (শুধু 4G)
6300mAh বড় ব্যাটারি দীর্ঘ সময় গেম খেলার সুবিধা দেয়
শক্তিশালী 50MP AI ক্যামেরা

realme সব সময়ই সব ধরনের ক্রেতার কথা চিন্তা করে আর realme C71 Official তারই একটি উদাহরণ। ১৫,০০০ হাজার টাকার বাজেটে গেমিং ফোন খুঁজলে এই ফোনটি হতে পারে আপনার আরেকটি বেস্ট অপশন।

 realme C71 এ শক্তিশালী UNISOC T7250 প্রসেসর আর আট কোর CPU থাকার কারণে ডেইলি গেমিং বেশ স্মুথ লাগে এবং লাইট থেকে মিড লেভেল গেম সহজেই খেলা যায়। তবে এই ফোনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ  হলো এর 6300mAh বিশাল ব্যাটারি যা দীর্ঘ সময় গেম খেলার সুযোগ দেয় এবং 45W SUPERVOOC চার্জিং দ্রুত চার্জ নিশ্চিত করে। 

গ্রাফিক্সের জন্য রয়েছে  Mali G57 GPU যাতে হালকা থেকে মাঝারি গেম ভালোভাবে খেলতে পারবেন। এছাড়া আপনার গেমিং এক্সপেরিয়েন্সকে আরও স্মুথ এবং ঝামেলামুক্ত করতে এতে রয়েছে Android 15 ভিত্তিক realme UI যা ফাস্ট রেসপন্স করে  এবং সহজ নেভিগেশনের মাধ্যমে ফোন ব্যবহারকে করে তোলে আরও স্মুথ।  

আর আপনার প্রাণবন্ত মুহূর্তগুলোকে ক্যাপচার করতে এতে রয়েছে 50MP AI ক্যামেরা যা শার্প ছবি এবং স্মুথ ভিডিও দেয় আর 5MP সেলফি ক্যামেরা প্রতিদিনের সেলফিকে করে আরও ন্যাচারাল। 

  • স্মুথ ডিসপ্লে
  • শক্তিশালী প্রসেসর 
  • ভালো ক্যামেরা পরিষ্কার ছবি তুলতে সাহায্য করে

Xiaomi Redmi 14C – Official

Pros (ভালো দিক)Cons (খারাপ দিক)
6.88 ইঞ্চি 120Hz ডিসপ্লেNFC সাপোর্ট নেই
Helio G81-Ultra প্রসেসর
বড় এবং ইমার্সিভ স্ক্রিন

আপনি যদি ডেইলি গেমিং আর সাধারণ ইউজের জন্য বেষ্ট একটি ফোন খুঁজে থাকেন তাহলে Xiaomi Redmi 14C – Official আপনার জন্য আরেকটি নির্ভরযোগ্য অপশন হতে পারে।

এই ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে MediaTek Helio G81-Ultra প্রসেসর যা ডেইলি গেমিংয়ের জন্য ভালোভাবে অপটিমাইজড। তাই Free Fire, Asphalt 9 বা PUBG Lite এর মতো গেমগুলো খেললেও ফ্রেম ড্রপ কম হয় এবং হিটিংও কন্ট্রোলে থাকে। এর সাথে আছে 120Hz রিফ্রেশ রেট যা গেম খেলার সময় স্ক্রিন মুভমেন্টকে আরও ফাস্ট এবং রেসপন্সিভ করে তোলে তাই লং ম্যাচ খেললেও বিরক্তি আসে না।

6.88 ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে গেমের ভিজ্যুয়ালকে করে আরও রিয়েলিস্টিক আর চোখে চাপও তুলনামূলক কম পড়ে। দীর্ঘ সময় গেম খেলার জন্য এতে রয়েছে 5160mAh ব্যাটারি যা একবার চার্জে অনেকক্ষণ সাপোর্ট দেয় এবং 18W ফাস্ট চার্জিং থাকায় ব্রেকের সময়েই আবার চার্জ হয়ে যায়। এছাড়া ফোনের সাইড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর দ্রুত আনলক করে এবং ডুয়াল স্পিকারের কারনে সাউন্ড আরও ক্লিয়ার এবং পাওয়ারফুল শোনায়।

সব মিলিয়ে যারা বাজেটের মধ্যে বড় ডিসপ্লে আর স্মুথ গেমিং চান তাদের জন্য Xiaomi Redmi 14C নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী অপশন।

  • বড় স্ক্রিনে ভালো ভিজ্যুয়াল এক্সপেরিয়েন্স 
  • লং টাইম গেম খেললেও গরম কম হয়
  • হাতের গ্রিপ আরামদায়ক লাগে

আরও পরুনঃ- ১০,০০০ হাজার টাকার গেমিং ফোন

Redmi 15C – Official

Pros (ভালো দিক)Cons (খারাপ দিক)
গেমিং এর জন্য MediaTek Helio G সিরিজ প্রসেসর ভালো পারফরম্যান্স দেয়ক্যামেরা লো লাইটে খুব শক্তিশালী না
বড় ব্যাটারি থাকায় দীর্ঘ সময় গেম খেলা যায়
দামের তুলনায় র‍্যাম এবং স্টোরেজ অপশন ভালো

গেমিং এর জন্য কোন প্রসেসর ভালো এই প্রশ্নটা সব গেমারদের মাথায় প্রথমে আসে। একজন গেমার সব সময় চায় স্মুথ পারফরম্যান্স এবং ঝামেলা ছাড়া গেম খেলার সুবিধা । ১৫০০০ টাকার মধ্যে MediaTek Helio G81 Ultra প্রসেসর গেমিং এর জন্য বেশ ভালো একটি অপশন সেটা আমরা সবাই কমবেশি জানি । এছাড়া Mali G52 MC2 GPU গেমের গ্রাফিক্স ভালোভাবে হ্যান্ডেল করে এবং লো সেটিংসে জনপ্রিয় গেমগুলো ল্যাগ ছাড়াই খেলতে সাহায্য করে।

এই ফোনে বড় ডিসপ্লে এবং 120Hz রিফ্রেশ রেট এর পাশাপাশি টাচ স্যাম্পলিং রেট বেশি হওয়ায় শুটিং এবং রেসিং গেমে রেসপন্স খুব ভালো পাওয়া যায়। তাছাড়া বড় ক্যাপাসিটির ব্যাটারি থাকার কারণে আপনি অনেকক্ষণ গেম খেলতে পারবেন। 

র‍্যাম এবং স্টোরেজ অপশন ভালো হওয়ায় একসাথে PUBG Mobile, Free Fire, Call of Duty Mobile, Asphalt 9, BGMI এবং Mobile Legends এর মতো জনপ্রিয় গেম সহজেই রাখতে পারবেন  এবং স্মুথভাবে খেলতে পারবেন । কম দামে ভালো গেমিং ফোনগুলোর মধ্যে Redmi 15C – Official সেরা গেমিং ফোনগুলোর একটি।

  • দীর্ঘ সময় চলা শক্তিশালী ব্যাটারি
  • ভালো পারফরম্যান্স
  • দারুন গ্রাফিক্স

Poco M7 5G

Pros (ভালো দিক)Cons (খারাপ দিক)
দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি একটানা অনেকক্ষণ ব্যবহার করতে পারবেন। ক্যামেরা পারফরম্যান্স লো লাইটে সাধারণ
RAM আর স্টোরেজের একাধিক অপশন থাকায় নিজের প্রয়োজন মতো নেওয়া যায়ফোনটি আকারে একটু বড় আর ভারী
Dolby Atmos অডিও থাকায় গেমিং আর মুভি আরও ইমার্সিভ হয়4G চিপসেট হওয়ায় 5G ব্যবহার করা যায় না

Poco মানেই বাজেটের মধ্যে পাওয়ারফুল পারফরম্যান্স আর সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে Poco M7 5G। এই ফোনে আলাদা আলাদা RAM আর স্টোরেজ অপশন রাখা হয়েছে যেন নিজের ব্যবহার অনুযায়ী বেছে নেওয়া যায়। বেস ভ্যারিয়েন্টে আছে 6GB RAM আর 128GB স্টোরেজ আর হাই ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যায় 8GB RAM আর 256GB স্টোরেজ। Memory Extension ফিচারের কারণে RAM বাড়ানো যায় তাই গেম খেলার সময় ফোন স্মুথ থাকে আর হ্যাং হওয়ার ঝামেলা কম হয়।

Processor হিসেবে আছে Snapdragon 685 octa core chipset যা ডেইলি গেমিং আর মাল্টিটাস্কিং এ ভালো পারফরম্যান্স দেয়। 6.9 ইঞ্চির বড় FHD+ ডিসপ্লেতে 144Hz refresh rate থাকায় গেম খেলার সময় মুভমেন্ট আর স্ক্রলিং অনেক বেশি ফ্লুইড লাগে।

আর গেমিং ফোন কেনার ক্ষেত্রে যদি ব্যাটারি আপনার প্রথম অগ্রাধিকার হয় তাহলে এই ফোনটিই আপনি পাবেন 7000mAh এর বিশাল ব্যাটারি যা দীর্ঘ সময় একটানা গেমিং সাপোর্ট করে আর ফাস্ট চার্জিং সুবিধা। সব মিলিয়ে ১৫০০০ টাকায় সেরা গেমিং ফোন এর তালিকায় Poco M7 5G নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী নাম।

  • বড় স্টোরেজ অপশন 
  • সাইড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর থাকায় 
  • ভালো অডিও কোয়ালিটি 

১৩ হাজার টাকার ভালো গেমিং ফোন

শখের বসে বা প্রফেশনাল গেইমার হিসেবে, যেভাবেই আপনি গেম খেলুন না কেন, একটি ভালো গেমিং ফোন আপনার গেমিংয়ে একদম স্মুথ এক্সপেরিয়েন্স দিবে । গেমিং ফোন কিনার ক্ষেত্রে আমরা অনেকে হয়তো ভাবি একটি ভালো গেমিং ফোন কিনতে এক্সপেন্সটা একটু বেশি পড়বে, কিন্তু আসলে তা নয়, আপনি আপনার বাজেটের মধ্যে ভালো গেমিং ফোন কিনতে পারবেন । 

কিন্তু আজকাল মার্কেটে এমন অনেক অপশন আছে যে কোনটা ছেড়ে কোনটা নেব তা নিয়ে আমরা কনফিউজ্ড হয়ে যাই । বিভিন্ন ব্র্যান্ড, স্পেসিফিকেশন এবং দামের পার্থক্যর কারনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য জানা জরুরি কোন ফোনগুলো আপনার বাজেটের মধ্যে থাকলেও উন্নতমানের গেমিং পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম। আর আপনার বাজেট যদি ১৩ হাজার টাকার কাছাকাছি হয়, তাহলে এই ব্লগটি আপনার জন্য একদম পারফেক্ট। কারন  এই ব্লগে আমরা এই বাজেটের বেস্ট ফোনগুলো নিয়ে আলোচনা করব, যাতে আপনি সহজেই আপনার জন্য সেরা গেমিং ফোন বেছে নিতে পারেন। 

Xiaomi Redmi 14C – Official

ভালো দিক (Pros)খারাপ দিক (Cons)
স্মুথ স্ক্রোলিং ও গেমিং এর জন্য রয়েছে 6.88 ইঞ্চি IPS LCD ডিসপ্লে।  অ্যাপ লোডিং ও আপডেটের গতি কিছুটা  ধীর
অসাধারন ব্যাটারি  লাইফ, একবারের  চার্জে সারাদিন ব্যবহার করতে পারবেন।
সর্বাধুনিক অপারেটিং সিস্টেম এবং কাস্টমাইজড ইউআই অভিজ্ঞতা।

প্রথমেই আমরা বলবো Xiaomi Redmi সিরিজ নিয়ে। বাজেট ফ্রেন্ডলি স্মার্টফোনের মধ্যে রেডমি সবসময়ই ব্যবহারকারীদের মাঝে জনপ্রিয়। স্পেশালি যারা গেমিং এবং ডেইলি ইউজের জন্য ব্যালেন্সড একটি স্মার্টফোন চান, তাদের জন্য রেডমি সিরিজ সবসময়ই বেস্ট। 

এবার আসা যাক Xiaomi Redmi 14C – Official নিয়ে। এটি গেমারদের জন্য একদম পারফেক্ট কারণ এতে আছে Mediatek Helio G81 Ultra (12nm) চিপসেট এবং অক্টা-কোর CPU, যা মসৃণ গেমিং পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে। গ্রাফিক্সের জন্য রয়েছে Mali-G52 MC2 GPU, ফলে গেম খেলার সময় ল্যাগ বা ফ্রেম ড্রপ হবে না। ফোনটির 6.88 ইঞ্চি IPS LCD ডিসপ্লে এবং 120Hz রিফ্রেশ রেট গেমপ্লে করবে আরও স্মুথ ও রেসপন্সিভ।

ব্যাটারির দিক থেকেও এটি গেমারদের জন্য দারুণ, কারণ এতে রয়েছে 5160mAh ব্যাটারি এবং 18W ফাস্ট চার্জিং। দীর্ঘ সময় গেম খেলার পরও সহজে চার্জ শেষ হবে না। 

এছাড়া সাইড মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, শক্তিশালী 50MP মেইন ক্যামেরা, এবং Wi-Fi ac, Bluetooth 5.4 সহ গেমারদের জন্য সব ধরনের আধুনিক ফিচার যুক্ত রয়েছে। সব দিক বিবেচনা করলে বলা যায়, বাজেট গেমারদের জন্য Xiaomi Redmi 14C সত্যিই একটি বেস্ট গেমিং ফোন।

Mini Specs
Display
: 6.88 inches | IPS LCD | 120Hz
Chipset: Mediatek Helio G81 Ultra (12 nm) | Octa-core
Memory: 64GB 4GB RAM, 128GB 4GB RAM, 128GB 6GB RAM, 128GB 8GB RAM, 256GB 4GB RAM, 256GB 8GB RAM
Rear Camera: 50MP (Wide) | 1080p
Front Camera: 13MP | 1080p
Battery: 5160 mAh | 35W Wired

আরও পরুনঃ- ২৫০০০ টাকার মধ্যে ভালো গেমিং ফোন

Galaxy A06 – Official

ভালো দিক (Pros)খারাপ দিক (Cons)
স্মুথ পারফরম্যান্সস্টেরিও  স্পিকার নেই
লং-লাস্টিং ব্যাটারি
৬.৭-ইঞ্চি HD+ স্ক্রিন গেমিং ও ভিডিওর জন্য পারফেক্ট 

স্যামসাং সবসময়ই তাদের দুর্দান্ত ক্যামেরার জন্য জনপ্রিয় হলেও গেমিং পারফরম্যান্সের দিক থেকেও ব্র্যান্ডটি অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসেছে Samsung Galaxy A06 – Official, যা বাজেট সেগমেন্টে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দিচ্ছে। ফোনটির ডিজাইন হালকা ও স্লিম, মাত্র ১৮৯ গ্রাম ওজনের কারণে এটি দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার করলেও হাতে ভারি মনে হবে না।

ফোনের বড় ৬.৭-ইঞ্চি HD+ ডিসপ্লে গেমিং ক্যারেক্টারকে করে তুলবে আরও জীবন্ত। PUBG Mobile, Free Fire বা Call of Duty-এর মতো জনপ্রিয় গেম খেলতে গেলে আপনি পাবেন আরও স্পষ্ট ভিজ্যুয়াল আর ডিটেইলড গ্রাফিক্স । এছাড়া আপনাকে ল্যাগমুক্ত এক্সপেরিয়েন্স দিতে এতে রয়েছে শক্তিশালী Mediatek Helio G85 (12 nm) চিপসেট। এর ফলে গেমিং, ভিডিও স্ট্রিমিং কিংবা মাল্টিটাস্কিং সবকিছুই হবে আরও স্মুথ । 

এবার আসা যাক Galaxy A06 এর ক্যামেরায়, এতে রয়েছে ৫০MP + ২MP ডুয়াল রিয়ার ক্যামেরা, যা প্রতিটি মুহূর্তকে স্পষ্ট ও জীবন্তভাবে ধারণ করে। আপনি যদি সেলফি লাভার হয়ে থাকেন এতে আছে  ৮MP ফ্রন্ট ক্যামেরা আছে, যা আপনার সেলফিকে করবে আরও আকষণীয়। 

গেমারদের সবসময়ই ফোনের ব্যাটারি নিয়ে একটু কনসার্ন থাকে, আর সেই চিন্তাকে দূর করতে এসেছে এই ফোনে রয়েছে ৫০০০mAh Li-Po ব্যাটারি দীর্ঘ সময় ধরে গেম খেলার জন্য, সঙ্গে ২৫W ওয়ায়ার্ড চার্জিং থাকায় ব্যাটারি দ্রুত চার্জ।

Mini Specs
Display
: 6.7 inches | PLS LCD
Chipset: Mediatek Helio G85 (12 nm) | Octa-core
Memory: 64GB 4GB RAM, 128GB 4GB RAM, 128GB 6GB RAM
Rear Camera: 50MP (Wide) | 2 MP (depth) | 1080p
Front Camera: 8MP
Battery: 5000 mAh | 25W Wired

Galaxy M05

ভালো দিক (Pros)খারাপ দিক (Cons)
Octa-Core প্রসেসর দিয়ে একসাথে অনেক অ্যাপ স্মুথলি চালানো যায়।ক্যামেরার নাইট মোড নেই।  
ডুয়াল রিয়ার ক্যামেরা।
25W ফাস্ট চার্জিং সুবিধা 

Samsung-এর আরেকটি অসাধারণ মডেল, যা নিয়ে কথা না বললেই নয়, তা হলো Galaxy M05। Galaxy A06 এর মতো এতেও রয়েছে ৬.৭ ইঞ্চির স্ক্রিন যা ভিডিও দেখার এবং হালকা গেম খেলার জন্য পারফেক্ট । স্ক্রিনে ১৬ মিলিয়ন কালার ডেপথ ব্যবহার করা হয়েছে, যা ছবি এবং ভিডিওকে একদম রিয়েল দেখায়।

যদি আপনি গেমিং এর পাশাপাশি  অনেকগুলো অ্যাপ একসাথে চালাতে চান, তাহলে Galaxy M05-এ আছে Mediatek Helio G85 চিপসেট, যা শক্তিশালী Octa-Core প্রসেসরের মাধ্যমে মসৃণ পারফরম্যান্স দেয়। দুইটি উচ্চ ক্ষমতার Cortex-A75 কোর ২.০GHz এবং ছয়টি Cortex-A55 কোর ০১.৮GHz স্পিডে কাজ করে, ফলে গেম খেলা, ভিডিও দেখানো বা মাল্টিটাস্কিং করতে কোনো রকম ল্যাগ হয় না। 

স্মুথ গেমিং এর জন্য কানেকশন তো মোস্ট ইম্পরট্যান্ট আর তাই  সংযোগের জন্য আছে Wi-Fi 802.11, Bluetooth 5.3, GPS, এবং USB Type-C 2.0, যা দ্রুত ডেটা ট্রান্সফার নিশ্চিত করে। আপনার স্পেশাল মুহূর্তগুলোকে স্মরণীয় করে তুলতে, এই ফোনে আছে ডুয়াল রিয়ার ক্যামেরা এবং ৮MP সেলফি ক্যামেরা, যাতে আপনি তুলতে পারবেন অসাধারনছবি ও ক্রিস্টাল ক্লিয়ার ভিডিও। 

Mini Specs
Display
: 6.7 inches | PLS LCD
Chipset: Mediatek Helio G85 (12 nm) | Octa-core
Memory: 64GB 4GB RAM
Rear Camera: 50MP (Wide) | 2 MP (depth) | 1080p
Front Camera: 8MP
Battery: 5000 mAh | 25W Wired

Motorola Moto G05

ভালো দিক (Pros)খারাপ দিক (Cons)
দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফনন-রিমুভেবল ব্যাটারি
Full HD ডিসপ্লে
দ্রুত ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ও জেস্টার কন্ট্রোল

সহজ ইউজার ইন্টারফেস এবং বাজেট-ফ্রেন্ডলি হওয়ার কারণে Motorola জনপ্রিয় একটি ব্র্যান্ড হিসেবে বেশ ভালো পরিচিতি পাচ্ছে। আর Motorola Moto G05 তার একটি সলিড উদাহরণ।

দীর্ঘসময় গেম খেলার ক্ষেত্রে চোখের স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবা স্বাভাবিক, তবে Motorola Moto G05-এর ৬.৬৭ ইঞ্চি IPS LCD ডিসপ্লে ৯০Hz রিফ্রেশ রেটের সঙ্গে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে দীর্ঘ গেমিং সেশনে চোখের ক্লান্তি কম হয় এবং গ্রাফিক্স খুবই মসৃণ মনে হয়। ৭২০ x ১৬০৪ পিক্সেল রেজুলেশন এবং Gorilla Glass 3 প্রোটেকশন ফোনের স্ক্রিনকে সুরক্ষিত রাখে।

Moto G05 Android ১৫ অপারেটিং সিস্টেমে চলে এবং Mediatek Helio G81 Extreme চিপসেটের সঙ্গে Octa-Core CPU আছে, যা  PUBG Mobile, Free Fire, Call of Duty Mobile, Genshin Impact এবং Asphalt 9-এর মতো হেভি গেমও ল্যাগ ছাড়াই চালাতে সাহায্য করে। Mali-G52 MC2 GPU গ্রাফিক্সকে আরও ফ্লুইড এবং রিয়েলিস্টিক করে। ভালোভাবে সাউন্ড এবং অডিও শোনার জন্য Moto G05-এ স্টেরিও লাউডস্পিকার এবং ৩.৫mm জ্যাক রয়েছে। স্টেরিও লাউডস্পিকার স্পষ্ট এবং ব্যালেন্ডস সাউন্ড দেয়, যা গেম, ভিডিও এবং মিউজিকের জন্য উপযুক্ত। একই সঙ্গে ৩.৫mm জ্যাক ব্যবহার করে হেডফোন বা ইয়ারফোনে আরও নিখুঁত এবং ব্যক্তিগত অডিও অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। ফলে, এই ফোনটি শুধু ভিজ্যুয়াল নয়, অডিওর দিক থেকেও গেইমারদের জন্য আরও একটি পারফেক্ট অপশন।  

Mini Specs
Display
: 6.7 inches | IPS LCD
Chipset: Mediatek Helio G81 Extreme | Octa-core
Memory: 64GB 4GB RAM
Rear Camera: 50MP (Wide) | 1080p
Front Camera: 8MP (wide)
Battery: 5200 mAh | 18W wired

Infinix Smart 10 Plus – Official

ভালো দিক (Pros)খারাপ দিক (Cons)
৬০০০mAh ব্যাটারি, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাকআপ নিশ্চিত করে।  ডিজাইনে কিছু প্লাস্টিক উপাদান রয়েছে।   
৬.৬৭ ইঞ্চি ১২০Hz রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে। 
IP64 রেটিং, পানির ছিটা ও ধূলি থেকে সুরক্ষা দেয়। 

ব্লগের এর শেষ পর্যায়ে এসে কথা বলবো Infinix Smart 10 Plus – Official নিয়ে। এই ফোনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ৬০০০mAh ব্যাটারি, যা দীর্ঘসময় চার্জ ধরে রাখে । অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী এটি সর্বোচ্চ ৩৬ দিন পর্যন্ত স্ট্যান্ডবাই টাইম দেয়, টানা ৪৭ ঘণ্টা কলিং টাইম এবং প্রায় ১২১ ঘণ্টা পর্যন্ত মিউজিক শোনার সুযোগ করে দেয়। ফলে গেম খেলা, ভিডিও দেখা কিংবা দৈনন্দিন ব্রাউজিং সবই করা যায় ব্যাটারি নিয়ে দুশ্চিন্তা ছাড়াই। সাথে রয়েছে ১৮W ফাস্ট চার্জিং, যা দ্রুত চার্জ হয়ে ব্যবহারকারীর সময় বাঁচায়।

ডিসপ্লে সেকশনে রয়েছে ৬.৬৭ ইঞ্চির HD+ IPS LCD স্ক্রিন, 120Hz রিফ্রেশ রেট এবং ৭০০ নিট ব্রাইটনেস, যা স্মুথ ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা ও ক্লিয়ার দৃশ্য প্রদান করে। পারফরম্যান্সের জন্য আছে Unisoc T7250 চিপসেট, Octa-Core CPU এবং Mali-G57 GPU, যা গেম খেলতে ভালো পারফরম্যান্স দেয়।

এছাড়া ৮MP ফ্রন্ট ও রিয়ার ক্যামেরা, স্টেরিও স্পিকার, ৩.৫mm হেডফোন জ্যাক এবং IP64 ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স ফোনটিকে আরও স্পেশাল করেছে। সব মিলিয়ে, Infinix Smart 10 Plus বাজেটের মধ্যে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্সের একটি গেমিং ফোন।

Mini Specs
Display
: 6.7 inches | IPS LCD
Chipset: Unisoc T7250 (12 nm) | Octa-core
Memory: 128GB 4GB RAM, 128GB 8GB RAM
Rear Camera: 8MP (Wide) | 1440p
Front Camera: 8MP (wide) | 1440p
Battery: 6000 mAh | 18W wired

পরিশেষে 

আশা করি এই ব্লগটি পড়ার পর আপনি ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে বেস্ট গেমিং ফোন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন। বর্তমান বাজারে বাজেট গেমিং ফোনের জন্য অনেক অপশন থাকলেও, গুরুত্বপূর্ণ হলো এমন ফোন বেছে নেওয়া যা ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারে।

এই ব্লগে আমরা Samsung, Xiaomi, Redmi, realme, Motorola, Poco এবং Infinix এর এমন কিছু ফোন নিয়ে আলোচনা করেছি যেগুলো ডেইলি গেমিং এবং সাধারণ ইউজ দুই দিক থেকেই বেশ ব্যালান্সড। বড় স্ক্রিন আর স্মুথ রিফ্রেশ রেট থেকে শুরু করে যারা শক্তিশালী ব্যাটারি প্রায়োরিটি দেন, সবার জন্যই এখানে ভালো অপশন রয়েছে।

তবে ফোন কেনার আগে নিজের প্রয়োজনটা ঠিক করে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি লং টাইম গেম খেলেন তাহলে ব্যাটারি আর কুলিং গুরুত্বপূর্ণ, আর যদি কম্পিটিটিভ গেম খেলেন তাহলে প্রসেসর আর ডিসপ্লে বেশি গুরুত্ব পাবে। আশা করি এই ব্লগটি  আপনাকে আপনার বাজেটের মধ্যে সেরা গেমিং ফোন বেছে নিতে সাহায্য করবে। 

আর আপনি যদি স্বল্প টাকায় একটি ভালো গেমিং ফোন কিনতে চান, তবে আজই ভিজিট করুন Apple Gadgets  স্টোর কিংবা ওয়েবসাইট আর  আপনার বাজেটের সেরা গেমিং ফোনটি সহজে পেয়ে যান। 

Similar Posts