বাজার সেরা ইপসন প্রিন্টার | কম খরচে মানসম্মত প্রিন্টিং
দীর্ঘমেয়াদী পারফরম্যান্স, কম প্রিন্টিং খরচ এবং নির্ভরযোগ্য একটি প্রিন্টারের কথা বললে Epson ব্র্যান্ডটি নিঃসন্দেহে প্রথম সারির একটি নাম। যেখানে অনেক প্রিন্টারে কার্টিজ রিপ্লেসমেন্ট একটি ঝামেলা এবং খরচের বিষয়, সেখানে Epson-এর রিফিলেবল ইঙ্ক ট্যাংক সিস্টেম দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কম খরচে প্রিন্ট করার সুবিধা পাওয়া যায়।
এছাড়াও Epson-এর বেশ কয়েকটি মডেলে আপনি Print, Scan, ও Copy করার মাল্টিপল ফাংশনালিটি একসাথে পেয়ে যাবেন। পাশাপাশি এর সাথে Wi-Fi বা Wireless Connectivity থাকায় মোবাইল বা ল্যাপটপ থেকেও খুব সহজে প্রিন্ট করা যায়।
তাই আজকের ব্লগে আমরা তুলে ধরবো বর্তমানে বাজার সেরা ৫টি ইপসন প্রিন্টার মডেল। আপনার প্রয়োজন এবং বাজেট অনুযায়ী সহজেই সেরা প্রিন্টার বেছে নিতে সবগুলো প্রিন্টার মডেলের বিস্তারিত দেখে নিন এখান থেকেই।
সেরা ৫টি Epson প্রিন্টার তালিকা
১। Epson EcoTank L3250
Epson EcoTank L3250 মডেলটি মূলত বাসা, অফিস, কিংবা ছোট ব্যবসার জন্য একদম পারফেক্টভাবে ডিজাইন করা হয়েছে।
প্রথমেই যদি পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলি, এতে ব্যবহার করা হয়েছে Piezoelectric Inkjet Technology, যা Epson-এর নিজস্ব একটি শক্তিশালী প্রিন্টিং টেকনোলজি। এর ফলে আপনি খুবই শার্প টেক্সট এবং ভাইব্রেন্ট কালার আউটপুট পাবেন। এছাড়াও 5760 × 1440 dpi রেজোলিউশন থাকার কারণে প্রিন্ট কোয়ালিটি যথেষ্ট ডিটেইলড। বিশেষ করে কালার ডকুমেন্ট বা ছবি প্রিন্ট করলে সেটা খুব ভালোভাবে ফুটে ওঠে।
এই প্রিন্টারে থাকছে EcoTank High Yield Ink System, যা একবার ফুল রিফিল করলে প্রায় ৪,৫০০ পেজ (Black) এবং ৭,৫০০ পেজ (Color) পর্যন্ত প্রিন্ট করা যায়।
কানেক্টিভিটির দিক থেকেও এটি বেশ এগিয়ে। এতে রয়েছে Wi-Fi এবং USB সাপোর্ট, ফলে আপনি সহজেই মোবাইল, ল্যাপটপ বা পিসি থেকে ওয়্যারলেস প্রিন্ট করতে পারবেন। বিশেষ করে Epson Smart Panel App ব্যবহার করে মোবাইল থেকেই প্রিন্ট, স্ক্যান বা সেটআপ কন্ট্রোল করা যায়।
মাল্টিফাংশনাল দিক থেকেও এটি পিছিয়ে নেই। Print, Scan, Copy-এই তিনটি ফাংশন একসাথে থাকায় এটি একটি কমপ্লিট ডকুমেন্ট সল্যুশন হিসেবে কাজ করে। স্কানারটিতে 1200 × 2400 dpi রেজোলিউশন থাকার কারণে স্ক্যান কোয়ালিটিও বেশ ভালো।
এই প্রিন্টারটিতে সর্বোমোট ১০০ শিট ইনপুট করা যায় এবং বিভিন্ন পেপার সাইজ (A4, Legal, Photo, Envelope) সাপোর্ট করে।
২। Epson EcoTank M1120
শুধু Black & White ডকুমেন্ট প্রিন্টিং করতে চাইলে Epson EcoTank M1120 একদম সেরা একটি সমাধান। এতে ব্যবহার করা হয়েছে Epson-এর Piezoelectric Inkjet Technology, যা মনোক্রোম প্রিন্টিংয়ে প্রায় laser-like sharp text output দিতে সক্ষম। এর টেক্সট প্রিন্ট এতটাই ক্লিয়ার হয় যে অফিস ডকুমেন্ট বা প্রফেশনাল প্রিন্টআউটে কোনো কমতি চোখে পড়ে না।
স্পিডের দিক থেকে এটি বেশ ফাস্ট। Draft মোডে 32ppm পর্যন্ত প্রিন্ট স্পিড পাওয়া যায়, আর ISO স্ট্যান্ডার্ডে 15ppm স্পিড ওঠে।
এই প্রিন্টারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এর Ultra High Yield Ink Efficiency। Epson 005 ইঙ্ক ব্যবহার করে আপনি হাজার হাজার পেজ প্রিন্ট করতে পারবেন, ফলে প্রতি পেজ খরচ অনেক কমে যাবে।
কানেক্টিভিটির দিক থেকে এখানে রয়েছে Wi-Fi এবং Mobile Printing Support (Epson iPrint, Email Print, Remote Print Driver)। ফলে আপনি সরাসরি মোবাইল বা ল্যাপটপ থেকে প্রিন্ট করতে পারবেন।
তাই সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, এই প্রিন্টারটি কম খরচে হাই ভলিউম মনো প্রিন্টিংয়ের জন্য অসাধারণ একটি অপশন।
আরও পড়ুনঃ- বাজেটের মধ্যে সেরা প্রিন্টার
৩। Epson EcoTank L130
বাজেটের মধ্যে কালার প্রিন্টিং চাইলে Epson EcoTank L130 একটি খুবই স্মার্ট চয়েস হবে। এই সিঙ্গেল ফাংশন প্রিন্টারটি সিম্পল ইউজ কেস যেমন ডকুমেন্ট, প্রজেক্ট বা ছবি প্রিন্টিং-এর কাজ যথেষ্ট ভালোভাবে করতে পারে।
এর প্রিন্ট কোয়ালিটির কথা বললে, এই প্রিন্টারে রয়েছে 5760 × 1440 dpi রেজোলিউশন, যা এই বাজেট সেগমেন্টে সত্যিই অসাধারণ। এর Inkjet টেকনোলজি এবং প্রিসিশন নোজল সিস্টেমের কারণে টেক্সট যেমন শার্প হয়, তেমনি কালার প্রিন্টও বেশ প্রাণবন্ত লাগে। তাই যারা স্কুল/কলেজ প্রজেক্ট বা বেসিক গ্রাফিক্স প্রিন্ট করেন, তাদের জন্য এটি যথেষ্ট ভালো আউটপুট দেবে।
স্পিডের দিক থেকে এটি Black 27ppm এবং Color 15ppm প্রিন্ট স্পিড দেয়। ছোটখাটো অফিস বা হোম ইউজের জন্য এই স্পিড একদম যথেষ্ট।
এছাড়া এই প্রিন্টারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর EcoTank Ink Efficiency। এতে T664 সিরিজ ইঙ্ক ব্যবহার করে আপনি প্রায় ৪,০০০ পেজ (Black) এবং ৬,৫০০ পেজ (Color) প্রিন্ট করতে পারবেন। অর্থাৎ, লং-টার্মে প্রতি পেজ খরচ অনেক কম পড়বে।
এতে শুধুমাত্র USB Connectivity রয়েছে, তবে যারা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট পিসি বা ল্যাপটপ থেকে প্রিন্ট করেন, তাদের জন্য এটি কোনো সমস্যা তৈরি করবে না।
সব মিলিয়ে, Epson EcoTank L130 প্রিন্টারটি, কম বাজেটে ভালো প্রিন্ট কোয়ালিটি, নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স এবং কম খরচে প্রিন্টিং-এর একটি সুন্দর কম্বিনেশন।
৪। Epson EcoTank L8050
যারা শুধুমাত্র ডকুমেন্ট বাদেও প্রফেশনাল ফটো প্রিন্টিং, গ্রাফিক্স বা ক্রিয়েটিভ কাজের জন্য প্রিন্টার খুঁজছেন, তাদের জন্য Epson EcoTank L8050 এক কথায় একটি গেম-চেঞ্জার। এই প্রিন্টারটির প্রতিটি আউটপুটে আপনি প্রফেশনাল কোয়ালিটি পাবেন।
প্রোফেশনাল প্রিন্ট কোয়ালিটি দিতে এই প্রিন্টারটিতে ব্যবহার করা হয়েছে Epson-এর অ্যাডভান্সড Piezoelectric Inkjet Technology, যা বিশেষভাবে borderless photo printing এবং accurate color reproduction-এর জন্য অপ্টিমাইজড করা। ফলে আপনি যে ছবি প্রিন্ট করবেন, সেটি অনেকটাই ল্যাব-কোয়ালিটি ফিনিশিং পাবে।
প্রিন্টিং স্পিডের ক্ষেত্রে Mono 33ppm এবং Color 15ppm প্রিন্ট স্পিড থাকায়, বড় প্রজেক্ট বা একাধিক ফটো প্রিন্ট করার সময় কোনো ধরনের ল্যাগ অনূভব করবেন না।
এছাড়াও এই প্রিন্টারে High Ink Yield System ব্যবহার করায় প্রতিটি ইঙ্ক বোতল থেকেই হাজার হাজার প্রিন্ট পাওয়া সম্ভব। তাই বিশেষ করে কালার প্রিন্টিংয়ে এটি কস্ট-এফেক্টিভ সমাধান দেয়।
কানেক্টিভিটির দিক থেকেও এটি পুরোপুরি আপডেটেড। এতে রয়েছে Wi-Fi, Wi-Fi Direct এবং USB সাপোর্ট, ফলে আপনি সরাসরি মোবাইল, ল্যাপটপ বা ক্যামেরা ডিভাইস থেকেও সহজেই প্রিন্ট করতে পারবেন।
এই মডেলটিতে 4×6″, 5×7″, 8×10″ থেকে শুরু করে বড় কাস্টম সাইজ পেপার (215.9 × 1200mm) পর্যন্ত সাপোর্ট করে, যা ক্রিয়েটিভ প্রজেক্টের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটিও যথেষ্ট প্রফেশনাল। 6kg ওজনের এই প্রিন্টারটি স্টেবল এবং হাই-ডিউটি ব্যবহারের জন্য উপযোগী। 100 শিট ইনপুট এবং 80 শিট আউটপুট ক্যাপাসিটি থাকায় কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
৫। Epson EcoTank L6370
Epson EcoTank L6370 মূলত একটি শক্তিশালী all-in-one প্রিন্টার, যা প্রিন্ট, স্ক্যান ও কপি- সব কাজ একসাথে করতে পারে।
এই প্রিন্টারটির PrecisionCore Printhead Technology, যেকোনো ধরনের প্রিন্টকে করে তোলে অত্যন্ত নিখুঁত এবং পরিষ্কার। টেক্সট হোক বা কালার গ্রাফিক্স সবকিছুই প্রফেশনাল মানের আউটপুট পাবেন। বিশেষ করে অফিস রিপোর্ট, প্রেজেন্টেশন বা ফটো প্রিন্টের ক্ষেত্রে এর পারফরম্যান্স বেশ ভালো।
স্পিডের দিক থেকেও এটি বেশ এগিয়ে। ISO স্পিডে 18ipm (Mono) এবং 9ipm (Color) প্রিন্ট করতে পারে। এছাড়াও Automatic Duplex সুবিধা থাকায় পেজের দুই পাশেই প্রিন্ট করা যায়। পাশাপাশি এতে 30-sheet ADF থাকার কারণে একাধিক পেজ স্ক্যান বা কপি করাও অনেক সহজ।
EcoTank প্রযুক্তির কারণে এর ইঙ্ক খরচ অনেক কম। একবার ফুল রিফিলে প্রায় 8,500 পেজ (Black) এবং 6,500 পেজ (Color) পর্যন্ত প্রিন্ট করা যায়। যারা নিয়মিত বেশি প্রিন্ট করেন, তাদের জন্য এটি দীর্ঘমেয়াদে অনেক সাশ্রয়ী একটি সমাধান।
কানেক্টিভিটির দিক থেকেও প্রিন্টারটিতে আধুনিকসব অপশন রয়েছে। এর USB, Ethernet, Wi-Fi এবং Wi-Fi Direct কানেক্টিভিটি দিয়ে আপনি মোবাইল, ল্যাপটপ বা অফিস নেটওয়ার্ক থেকে সহজেই প্রিন্ট করতে পারবেন।
প্রিন্টারটির পেপার হ্যান্ডলিংও বেশ ভালো, 250 শিট ইনপুট ট্রে থাকার কারণে বারবার কাগজ লোড করার ঝামেলা কমে যায়। পাশাপাশি 1200 × 2400 dpi স্ক্যান রেজোলিউশন থাকায় ডকুমেন্ট স্ক্যানও যথেষ্ট পরিষ্কার ও নিখুঁতভাবে পাওয়া যায়।
পরিশেষে
পরিশেষে সবকিছু বিবেচনা করলে বলা যায়, ইপসন প্রিন্টারগুলো পারফরম্যান্স, প্রিন্ট কোয়ালিটি এবং কম খরচে প্রিন্টিং- এই তিনটি দিক থেকেই এগিয়ে। বাসা, অফিস কিংবা প্রফেশনাল কাজের জন্য এই তালিকার প্রতিটি মডেলই নিজ নিজ জায়গায় বেস্ট ভ্যালু দিচ্ছে। তাই দীর্ঘ সময় নির্ভরযোগ্য প্রিন্টিং এক্সপেরিয়েন্স উপভোগ করতে, আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক মডেলটি বেছে নিন। এই প্রিন্টারগুলোসহ আরো কিছু মডেলের বিস্তারিত দেখতে এখনই ভিজিট করুন Apple Gadgets ওয়েবসাইটে। এখানে পাবেন ১০০% অরিজিনাল প্রোডাক্ট, বেস্ট প্রাইস এবং নির্ভরযোগ্য সার্ভিস। তাই এখনই আপনার পছন্দের প্রিন্টারটি অর্ডার করুন এবং উপভোগ করুন ঝামেলাহীন প্রিন্টিং এক্সপেরিয়েন্স!

Borhan Uddin Alif is a writer with 3 years of experience, focusing on technology, marketing, and storytelling, and enjoys exploring various niches and topics.
