কম দামে ভালো স্মার্ট টিভি | স্মার্ট ফিচারের বাজেট সেরা টিভি

টিভির বড় স্ক্রিনে  ইউটিউব, লাইভ ক্রিকেট অথবা OTT প্ল্যাটফর্মে প্রিয় কনটেন্ট দেখার এক্সপেরিয়েন্স নিতে দরকার একটি স্মার্ট টিভি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, বাজারে ঢুকলেই দেখা যায় HD Ready, Full HD, 4K, Android TV, Google TV-সহ আরো নানান ফিচারের টিভি। এই ভিড়ে আসলে কোন টিভিটা আপনার জন্য বেস্ট, সেটা বুঝে ওঠাই কঠিন হয়ে যায়। বিশেষ করে যখন বাজেট একটু সীমিত থাকে, তখন কম দামে ভালো স্মার্ট টিভি খুঁজে বের করাটা অনেকটাই চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়।

তাই আজকের এই রিভিউ সিরিজে আমরা এমন কিছু স্মার্ট টিভি নিয়ে আলোচনা করবো, যেগুলো প্রাইস অনুযায়ী ডেইলি এন্টারটেইনমেন্টের জন্য যথেষ্ট স্মার্ট ফিচার অফার করে। চলুন তাহলে একে একে দেখে নেওয়া যাক প্রতিটি মডেলের বিস্তারিত সবকিছু।

১। SAMSUNG H5000F HD Smart LED TV – 32”

লিষ্টের শুরুতেই রাখছি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড স্যামসাং, যারা তাদের বাজেট সেগমেন্টের এই স্মার্ট টিভিতে ব্যবহার করেছে 32-ইঞ্চি HD (1366 × 768) LED প্যানেল। এই ডিসপ্লেটিতে Samsung-এর Hyper Real Picture Engine, PurColor এবং Contrast Enhancer একসাথে কাজ করে, তাই কালার টোন থাকে প্রাণবন্ত এবং কনট্রাস্টও থাকে ব্যালান্সড। ফলে HD রেজোলিউশন হলেও কনটেন্ট দেখার সময় ভালো একটি ভিজ্যুয়াল এক্সপেরিয়েন্স পাওয়া যায়।

স্মার্ট ফিচারের জায়গায় এই টিভিতে রয়েছে Tizen OS, যা Samsung-এর নিজস্ব অপ্টিমাইজড প্ল্যাটফর্ম। এই UI যথেষ্ট স্মুথ এবং জনপ্রিয় সকল স্ট্রিমিং অ্যাপগুলো সহজেই অ্যাক্সেস করা যায়। পাশাপাশি Bixby Voice Ready থাকায় ভয়েস কমান্ড দিতে পারবেন। আর Apple AirPlay সাপোর্ট থাকায় iPhone বা iPad ইউজাররা খুব সহজেই স্ক্রিন মিরর করতে পারবেন।

অডিও পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রেও এই বাজেটে কিছু ভালো ফিচার দেওয়া হয়েছে। এতে 10W 2CH স্পিকার সেটআপের সাথে OTS Lite (Object Tracking Sound Lite) ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর সাথে Adaptive Sound ফিচারটি কনটেন্ট অনুযায়ী সাউন্ড টিউন করে, ফলে যেকোনো টোনের ডায়লগ অথবা সাউন্ড ক্লিয়ার শোনা যায়।

কানেক্টিভিটির দিক থেকেও এটি যথেষ্ট আপডেটেড। 2টি HDMI (eARC সাপোর্টসহ), USB-A, Bluetooth এবং RF ইনপুট থাকায় যেকোনো ডিভাইস সেটআপ করা বেশ সহজ।

সব মিলিয়ে, যারা কম দামে একটি ব্র্যান্ড ভ্যালু, স্মার্ট ফিচার এবং স্টেবল পারফরম্যান্স একসাথে চান, তাদের জন্য SAMSUNG H5000F একটি কার্যকর অপশন বলা যায়।

২। TOSHIBA 32V35MP 32-Inch Android Smart TV

একই 32-ইঞ্চি সেগমেন্টে যদি আরো কিছু স্মার্ট ফিচার, পারফরম্যান্স আর ভালো অডিও এক্সপেরিয়েন্স চান, তাহলে TOSHIBA 32V35MP Android Smart TV খুব ভালোভাবে আপনার নজর কাড়বে।

ডিসপ্লে সেকশনে এখানে 1366 × 768 HD রেজোলিউশন থাকলেও, Toshiba তাদের Regza Engine HD এবং Dynamic Backlight Control ব্যবহার করে প্রতিটি ফ্রেমকে অপ্টিমাইজ করার চেষ্টা করেছে। এর সাথে High Contrast এবং মাল্টিপল পিকচার মোড (Vivid, Movie, Game, Sports) থাকায় আপনি আপনার কনটেন্ট অনুযায়ী ভিজ্যুয়াল টিউন করতে পারবেন। Samsung H5000F যেখানে 50Hz রিফ্রেশ রেট দিচ্ছে, সেখানে এই মডেলে 60Hz থাকায় ফাস্ট মুভিং কনটেন্ট যেমন স্পোর্টস বা ইউটিউব ভিডিও একটু বেশি স্মুথ লাগে।

স্মার্ট ফিচারের জায়গায় এই টিভির সবচেয়ে বড় দিক হলো এর Android 11 OS। ফলে Google Play Store থেকে সরাসরি অ্যাপ ইনস্টল করা যায়, এবং Google Assistant Built-in থাকায় ভয়েস কমান্ড দিয়ে কনটেন্ট সার্চ বা কন্ট্রোল করা বেশ সহজ। পাশাপাশি Chromecast Built-in থাকায় মোবাইল থেকে খুব দ্রুত কাস্টিং করা যায়। 

পারফরম্যান্সের দিক থেকেও এখানে CA55×4 প্রসেসর, G31 GPU, 1GB RAM এবং 8GB স্টোরেজ দেওয়া হয়েছে, যা ডেইলি স্ট্রিমিং, ইউটিউব বা লাইট অ্যাপ ইউজের জন্য যথেষ্ট স্মুথ পারফরম্যান্স দিবে।

অডিও সেকশনে এই মডেলটি স্পষ্টভাবে এগিয়ে। এখানে 8W + 8W ডুয়াল স্পিকার (মোট 16W) এর সাথে Dolby Audio, DTS Virtual X এবং DTS Studio Sound সাপোর্ট করে।

কানেক্টিভিটির দিক থেকে Dual Band Wi-Fi, Bluetooth 5.0, 2টি HDMI, 2টি USB, Ethernet, Optical Audio Out রয়েছে। সব মিলিয়ে একাধিক ডিভাইস কানেক্ট করার জন্য যথেষ্ট ফ্লেক্সিবিলিটি পাবেন। এছাড়াও ডিজাইনের ক্ষেত্রে এর Bezel-less slim design টিভিটিকে দেখতে বেশ আধুনিক ও প্রিমিয়াম দেখায়, যা লিভিং রুম বা বেডরুম সেটআপে সহজেই ম্যাচ করে যায়।

আরও পড়ুনঃ- LED vs OLED TV

৩। TCL 32S5K 32-Inch FHD QLED Smart Google TV

আপনি যদি ডিসপ্লে কোয়ালিটিকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেন, তাহলে এই মডেলটি খুব সহজেই একটি টপ চয়েস হিসেবে উঠে আসে। কারণ এই বাজেটে QLED + Full HD কম্বিনেশন খুব বেশি দেখা যায় না।

ডিসপ্লে সেকশনে এই টিভির সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এর QLED প্যানেল। সাধারণ LED প্যানেলের তুলনায় QLED টেকনোলজি বেশি ব্রাইটনেস, ভালো কালার অ্যাকিউরেসি এবং রিচ কনট্রাস্ট দিতে পারে। এর সাথে FHD (1920 × 1080) রেজোলিউশন থাকায় আপনি যথেষ্ট শার্প ভিজ্যুয়াল পাবেন। পাশাপাশি কালার ভাইব্রেন্স ও ব্রাইটনেসের দিক থেকে এটি আরও একটু এগিয়ে। 

স্মার্ট ফিচারের জায়গায় এখানে রয়েছে Google TV, যা আপনার ভিউয়িং হিস্ট্রি অনুযায়ী সাজানো রিকমেন্ডেশন, Play Store থেকে অ্যাপ ডাউনলোড এবং Google Voice Assistant-এর মতো সকল স্মার্ট ফিচারগুলো দিয়ে থাকে।

পারফরম্যান্সের জন্য এখানে CA55x4 প্রসেসর এবং 8GB স্টোরেজ দেওয়া হয়েছে, যা ডেইলি স্ট্রিমিং, ইউটিউব বা OTT ইউজের জন্য যথেষ্ট স্থির পারফরম্যান্স দেবে।

অডিও সেকশনে 2×8W স্পিকার (মোট 16W) এবং Dolby Audio সাপোর্ট রয়েছে, যা ডেইলি এন্টারটেইনমেন্টের জন্য যথেষ্ট ভালো। এছাড়াও কানেক্টিভিটির দিক থেকেও এটিতে 3টি HDMI পোর্ট, 2টি USB, Bluetooth 5.0 এবং Wi-Fi রয়েছে। বিশেষ করে যারা গেমিং কনসোল বা সেট-টপ বক্স ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এক্সট্রা HDMI পোর্ট বেশ কাজের।

সব মিলিয়ে, TCL 32S5K এর QLED ডিসপ্লে + FHD রেজোলিউশন কম্বিনেশনের কারণে অনেকটা এগিয়ে। তাই এই বাজেটে যদি আপনি সেরা ভিজ্যুয়াল কোয়ালিটি চান, তাহলে এটিকে নিঃসন্দেহে একটি টপ পিক বলা যায়। 

৪। LG 32LQ636BPSA Smart HD TV

কাছাকাছি ফিচারের পাশপাশি AI-ড্রিভেন স্মার্ট ফিচার চাইলে LG ব্রান্ডের এই মডেলের টিভিটি নিঃসন্দেহে একটি সেরা বাজেট স্মার্ট টিভি। মূলত LG তাদের ডিসপ্লে ও প্রসেসিং টেকনোলজির জন্য অনেকদিন ধরেই পরিচিত, আর এই মডেলটি সেই এক্সপেরিয়েন্সকে বাজেট রেঞ্জেও ভালোভাবে নিয়ে এসেছে।

এর ডিসপ্লের দিকে তাকালে এখানে HD (1366 × 768) রেজোলিউশন থাকলেও, LG এর α5 Gen5 AI Processor এই সীমাবদ্ধতাকে অনেকটাই পুষিয়ে দেয়।। এটি AI Upscaling এবং Dynamic Tone Mapping ব্যবহার করে লো রেজোলিউশন কনটেন্টকেও তুলনামূলকভাবে ক্লিয়ার ও শার্প করে দেখাতে পারে। এর সাথে Active HDR, HDR10 Pro, HLG সাপোর্ট থাকায় কালার ডেপথ ও কনট্রাস্ট আরও প্রাণবন্ত লাগে।

OS প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এতে  webOS ব্যবহার করা হয়েছে। Samsung-এর Tizen OS-এর মতোই এটিও একটি অপ্টিমাইজড ইকোসিস্টেম, তবে LG এখানে ThinQ AI, Google Assistant, Apple HomeKit এবং ভয়েস কন্ট্রোলের মতো ফিচার যোগ করেছে। এছাড়া Magic Remote সাপোর্ট থাকায় নেভিগেশন অনেকটাই সহজ লাগবে।

অডিও পারফরম্যান্সের জায়গায় এই টিভি সত্যিই ভালো অবস্থানে আছে। এখানে 20W (10W + 10W) স্পিকার এর সাথে AI Sound (Virtual 5.1 Up-mix) ব্যবহার করা হয়েছে, যা সাধারণ স্টেরিও সাউন্ডকে ভার্চুয়াল সারাউন্ড অনুভূতি দেয়। এর সাথে Clear Voice Pro ফিচার ডায়ালগকে আরও ক্লিয়ার করে এবং AI Acoustic Tuning রুম অনুযায়ী সাউন্ড অপ্টিমাইজ করে। 

এর কানেক্টিভিটির জন্য থাকছে HDMI 2.0 (eARC সহ), USB, Bluetooth 5.0, Wi-Fi ac, LAN পোর্ট। পাশাপাশি Bluetooth Surround Ready এবং LG Sound Sync থাকায় এক্সটার্নাল অডিও সেটআপ করাও বেশ সহজ।

এছারাও এই মডেলটিতে থাকা Sports Alert, Game Optimizer, AI Recommendation এবং Home Dashboard ফিচারগুলো লাইভ স্পোর্টস বা গেমিং পছন্দ করা ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ উপযোগী।

আরও পড়ুনঃ- টিভি স্টিক ও ক্রোমকাস্টের মধ্যে পার্থক্য

৫। Xiaomi A Pro 32 Inch HD Smart Android Google TV (Global Version)

এই লিস্টের শেষ মডেল হিসেবে Xiaomi A Pro টিভিটি লেটেস্ট Google TV ইন্টারফেস এবং স্মার্ট হোম কন্ট্রোল ফিচার চাওয়া ইউজারদের জন্য বেশ আকর্ষণীয় একটি চয়েস।

এর ডিসপ্লেটি HD (1366 × 768) রেজোলিউশনের, যাতে 178° ওয়াইড ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল থাকার কারণে যেকোনো অ্যাঙ্গেল থেকে ভিজ্যুয়াল বেশ ক্লিয়ার লাগে। পাশাপাশি 60Hz রিফ্রেশ রেট থাকায় ডেইলি কনটেন্ট, ইউটিউব বা লাইভ স্পোর্টস দেখার সময় স্মুথ এক্সপেরিয়েন্স পাওয়া যাবে। ডিজাইনের দিক থেকেও এর no-bezel লুক টিভিটিকে বেশ আধুনিক ও প্রিমিয়াম একটা লুক দেয়।

স্মার্ট ফিচার হিসেবে এই টিভিটিতে থাকছে Google TV প্ল্যাটফর্ম। এটি Android TV-এর আরও আপডেটেড ও কনটেন্ট-ফোকাসড ভার্সন, যেখানে আপনার পছন্দ অনুযায়ী সাজানো রিকমেন্ডেশন পাবেন। 

টিভিটিতে Google Assistant built-in থাকায় ভয়েস কমান্ড দিয়ে সহজেই কনটেন্ট সার্চ বা স্মার্ট হোম ডিভাইস কন্ট্রোল করা যায়। এছাড়াও Chromecast built-in এবং Miracast সাপোর্ট থাকায় মোবাইল থেকে কাস্টিংও খুব সহজ।

অডিও পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে এখানে 2×10W (মোট 20W) স্পিকার এর সাথে Dolby Audio, DTS-X এবং DTS Virtual:X সাপোর্ট রয়েছে। কানেক্টিভিটির দিক থেকেও থাকছে Bluetooth 5.0, Dual Band Wi-Fi, HDMI, USB, LAN, AV-সহ প্রয়োজনীয় সকল অপশন।

সব মিলিয়ে, যারা Google TV এর সাথে স্মার্ট হোম ইন্টিগ্রেশন চান, তাদের জন্য Xiaomi A Pro খুব স্মার্ট চয়েস।

পরিশেষে

কম দামে ভালো স্মার্ট টিভি খুঁজতে গেলে আসলে যেকোনো একটা মডেলকে ভালো বলার সুযোগ নেই। মূলত আপনার ইউজ, পছন্দ এবং চাহিদার ওপরই সিদ্ধান্তটা নির্ভর করবে। তবে উপরের লিস্টের প্রতিটি মডেলই তাদের নিজ নিজ জায়গায় ভ্যালু ফর মানি অপশন।উক্ত মডেলগুলোসহ আরো জনপ্রিয় ব্রান্ডের একাধিক মডেল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন Apple Gadgets ওয়েবসাইটে। এখানে আপনি পাবেন ১০০% অরিজিনাল স্মার্ট টিভি, অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি এবং ট্রাস্টেড আফটার সেলস সাপোর্ট। তাই আপনার বাজেট অনুযায়ী সঠিক স্মার্ট টিভি বেছে নিতে এখনই ভিজিট করুন Apple Gadgets-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেএবং আপনার লিভিং রুমকে করে তুলুন আরও বেশি স্মার্ট।

Similar Posts