বাজেটের মধ্যে সেরা প্রিন্টার

বাজেটের মধ্যে সেরা প্রিন্টার

বাজেটের মধ্যে সেরা প্রিন্টার কেনার সময় শত শত ব্র্যান্ডের হাজার হাজার মডেলের ভিড়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া স্বাভাবিক। মার্কেটে এত অপশন যে, ঠিক কোন প্রিন্টারটা নিজের জন্য পারফেক্ট হবে সেটা বোঝা অনেকের জন্যই কনফিউজিং। কেউ চান স্পিড, কেউ কালার কোয়ালিটি, কেউ আবার লো কস্টে লং-টার্ম সলিউশন। অন্যদিকে অনেকে চান বাজেট ফ্রেন্ডলি কিন্তু প্রিমিয়াম এক্সপেরিয়েন্স । বিশেষ করে অ্যাপেল ব্যবহারকারীদের জন্য কম্প্যাটিবিলিটি আর ইজি ইউজও একটা বড় ব্যাপার। 

এই ব্লগে আমরা কয়েকটা বেস্ট ভেলু ফর মানি প্রিন্টার দেখবো। যেগুলো পকেট ফ্রেন্ডলি হওয়ার পাশাপাশি ডেইলি লাইফে রিয়েল ইউজে দারুণ পারফর্ম করে। প্রিন্টিং, স্ক্যানিং বা রুটিন ডকুমেন্ট কাজ, সব মিলিয়ে আপনার বাজেটের মধ্যে কোনটা সবচেয়ে ভালো হবে, সেটা যেন আপনি সহজেই বুঝেতে পারবেন। আসুন দেরি না করে শুরু করা যাক।

বাজেটের মধ্যে পরীক্ষিত সেরা ৭ টি  প্রিন্টার 

১. Canon Pixma IP 2770

পজিটিভ দিকডিসেন্ট প্রিন্টি কোয়ালিটিলো ইঙ্ক কস্টলো মেইনটেনেন্স

নেগেটিভ দিককপি  বা স্কেন ফিচার নেই তুলনামূলক প্রিন্টিং টাইম বেশি 

কেনো আমরা এটা পিক করলাম

Canon Pixma IP 2770 একটি সিম্পল, রিলায়েবল সিঙ্গেল ফাংশন ইনকজেট প্রিন্টার, যেটা বিশেষ করে কালার ডকুমেন্ট আর ফটো প্রিন্টিং এ ভালো আউটপুট দেয়। এর  সুপার ব্রাইট রেজোলিউশন ফটো প্রিন্টকে শার্প ও ক্লিয়ার করে তোলে। সাধারণ কাজের জন্য ৭ ppm (Pages Per Minute) ব্ল্যাক এবং ৪.৮ ppm কালার স্পিড ঠিকঠাক পারফরম্যান্স দেয়। পাশাপাশি এর বর্ডারলেস প্রিন্টিং টেকনোলজি  তো আছেই, তাই হোম ইউজে ছোটখাটো ফটো প্রিন্টিং এর জন্য এটা বেশ কনভিনিয়েন্ট। আর USB কানেক্টিভিটি থাকায় সেটআপ করাও খুব সহজ। মোটের ওপর, এটা একটা বাজেট-ফ্রেন্ডলি, কমপ্লিকেটেড ফিচার ছাড়া সরল ও ঝামেলাহীন ব্যবহারকারীর জন্য পারফেক্ট।

এটা কাদের জন্য বেস্ট হবে

যারা মাঝে মাঝে ডকুমেন্ট আর ফটো প্রিন্ট করেন, মানে স্টুডেন্ট, হোম ইউজার বা ছোট অফিস তাদের জন্য এটা বেস্ট অপশন। বিশেষ করে যাদের ভেলু ফর মানি চাই আর ফটো প্রিন্টিং এর এপ্রিয়েন্স গুরুত্বপূর্ণ তাদের জন্য এটি চমৎকার চয়েস।

২. HP DeskJet Ink Advantage 2336

পজিটিভ দিকপ্রিন্ট , স্কেন ও কপি অল ইন ওয়ান ফিচারভালো প্রিন্টিং কোয়ালেটিবাজেট ফ্রেন্ডলি কার্টিজ

নেগেটিভ দিকস্লো  প্রিন্টিং স্পিডনো ওয়ারলেস অনলি USB

কেনো আমরা এটা পিক করলাম

HP DeskJet Ink Advantage 2336 একটি অল-ইন-ওয়ান সলিউশন। এক বাক্যে বললে প্রিন্ট, স্ক্যান,ফটোকপি সব গুলো ফিচার একসাথে পাওয়া যায়। যারা হোম বা স্টুডেন্ট ইউজে মাল্টি-পারপাস কাজ করেন, তাদের জন্য এর সিম্পল অপারেশন খুব সাহায্যকারী। এর ৭.৫  ppm ব্ল্যাক এবং ৫.৫ ppm কালার স্পিডে নরমাল ডকুমেন্ট প্রিন্টিং অনায়াসে হয়। এর  ক্লিয়ার প্রিন্টিং রেজোলিউশন  স্টাডি বা অফিস ডকুমেন্ট প্রিন্টিং করতেও ভালো রেজাল্ট দেয়। কমপ্যাক্ট সাইজ, ইজি টু সেটআপ জন্য এটা বাংলাদেশে বাজেট কনসার্ন  ইউজারদের পছন্দের শীর্ষে। A4 থেকে Legal যে কোনো পেপার টাইপই হোক না কেন, প্রিন্টিং হবে সিমলেস।

এটা কাদের জন্য বেস্ট হবে

যারা একটা প্রিন্টার দিয়ে সব কাজ সেরে ফেলতে চান তাদের জন্য এই .HP DeskJet Ink Advantage 2336  বেস্ট। অ্যাসাইনমেন্ট, স্ক্যান, কপি এই সব রুটিন কাজ সিমলেসলি করতে পারবেন।তাই লো বাজেটে মাল্টি-ফাংশনালিটি চাইলে এটা দারুণ চয়েস ।

আরও পরুনঃ- বাজেটের মধ্যে সেরা এয়ারবাডস

৩. Pantum P2506

পজিটিভ দিকফাস্ট প্রিন্টিং স্পিড (২২ ppm)বাজেট ফ্রেন্ডলি প্রিন্টিংস্ট্রোং বিল্ড কোয়ালেটি
নেগেটিভ দিকনো কালার প্রিন্টিং নো স্কেন বা কপি ফিচার 

কেনো আমরা এটা পিক করলাম

Pantum P2506 একটি বাজেট ফ্রেন্ডলি মনো লেজার প্রিন্টার, যেটা স্পিড আর ইফিশিয়েন্সির জন্য পরিচিত। সুপার ২২ ppm স্পিডে ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট ডকুমেন্ট প্রিন্ট করা যায়, যা ব্যস্ত অফিস বা ফাস্ট আউটপুট দরকার এমন ইউজারদের জন্য দারুণ উপযোগী। হ্যাভি ডিউটি সাইকেল (১৫,০০০ পেজ) থাকায় এটি হেভি ইউজ সামলাতে সক্ষম। সর্বোচ্চ ১৫০  পেজ ইনপুট ট্রে আর বিভিন্ন পেপার সাইজ সাপোর্ট করে যা এই বাজেটে রেয়ার। এর সুপার ক্লিন রেজোলিউশন নরমাল টেক্সটকে শার্প রাখে। সহজ USB কানেক্টিভিটি থাকায় সেটআপও সহজ।

এটা কাদের জন্য বেস্ট হবে

যাদের রেগুলারলি অনেক ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট ডকুমেন্ট প্রিন্ট করতে হয় যেমন: ছোট অফিস, দোকান, বিজনেস কাউন্টার, অথবা স্টুডেন্ট যাদের নোট বহু প্রিন্ট করতে হয় তাদের জন্য এটা নিঃসন্দেহে বেস্ট।

৪. Canon Pixma TS207

পজিটিভ দিকসুপার ফাস্ট প্রিন্টিং স্পিডইজি কানেক্টিভিটিবাজেট ফ্রেন্ডলি টোনারলাইট ওয়েট
নেগেটিভ দিকনো ওয়ারলেস কানেক্টিভিটি

কেনো আমরা এটা পিক করলাম

যারা ৭ হাজার টাকার আশে পাশে কালার প্রিন্টিং ফিচার সহ ভালো মানের একটি প্রিন্টার খুঁজছেন তারা একবার Canon ব্রান্ডের TS207  প্রিন্টারটি দেখতে পারেন। Canon Pixma TS207 মূলত Pantum P2506 এর মতো পারফরম্যান্স দেয়, তবে বাড়তি সুবিধা হলো কালার প্রিন্টিং এবেলেটি। সর্বোচ্চ ৭.৭ ipm (images per minute) স্পিড আর কম সময়ে প্রথম প্রিন্ট আউট টাইমের কারণে এটি দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে। এর হাই DPI রেজোলিউশন থাকায় সাদা কালো কিংবা কালার প্রিন্টে টেক্সট আউটপুটও  খুবই ক্লিয়ার। পাশাপাশি অফিসিয়াল A4  পেপার , ফটো পেপার কিংবা স্টিকার পেপার সব পেপারে প্রিন্টিং হবে স্মুথলি।  যারা স্মার্ট ও কুইক ওয়ার্কফ্লো চান তাদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে   দারুণ অপশন।

এটা কাদের জন্য বেস্ট হবে

যারা হোম ইউজার, ছোট অফিস বা মাল্টি-ডিভাইস সেটআপে ব্লাক ও কালার প্রিন্টিং চান ,তাদের জন্য পারফেক্ট। অন্য দিকে এর লাইট ওয়েট ডিজাইন এই মডেলকে আরও স্মার্ট ও ইজি-টু-ইউজ করে তোলে।

৫. HP DeskJet 2320

পজিটিভ দিকসুপার ক্লিন ও শার্প প্রিন্টিং হাই ভলিউম প্রিন্টিং লোং লাস্টিং টোনার স্পেস সেভিং ডিজাইন 
নেগেটিভ দিকWifi নেই 

কেনো আমরা এটা পিক করলাম

বাজেটের মধ্যে HP DeskJet 2320  একটা সিম্পল, ফাস্ট আর রিলায়েবল অল ইন ওয়ান প্রিন্টার। হ্যা এই বাজেটে অল ইন ওয়ান প্রিন্টার রেয়ার। এই প্রিন্টার দিয়ে আপনি সহজে প্রিন্ট , ফটোকপি এমন কি স্কেন ও করতে পারছেন। যারা ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট ডকুমেন্ট প্রিন্টং এর সাথে কালার প্রিন্ট করেন তাদের জন্য এটা বেস্ট অপশন। এই প্রিন্টারটি সহজেই মিনিটে সর্বোচ্চ ৭টি সাদা-কালো ও সর্বোচ্চ ৫টি কালার প্রিন্ট করতে পারে। বড় ডিউটি সাইকেল থাকায় নিয়মিত অনেক প্রিন্ট হ্যান্ডেল করতে পারে। এর আউটপুট শার্প, তাই অফিসিয়াল ডকুমেন্ট বা ফরমাল পেপারগুলো খুব ক্লিন দেখায়। বিভিন্ন পেপার টাইপ সাপোর্ট করে, তাই অফিস–স্কুল–ব্যবসায়িক যে কোনো কাজেই এটা এফিশিয়েন্ট। প্লেইন USB কানেকশন সেটআপ এটাকে করেছে আরো ঝামেলাহীন।যারা ডিসেন্ট ফিচার আন্ডার বাজেট ও শুধু পেপার  প্রিন্টার চান এটা তাদের জন্য চমৎকার চয়েস।

এটা কাদের জন্য বেস্ট হবে

যারা ছোট অফিস, দোকান, অ্যাকাউন্টিং কাজ, স্কুল–কলেজের স্টাফ রেগুলারলি অনেক ডকুমেন্ট প্রিন্ট করেন তাদের জন্য পারফেক্ট। স্পিড, শার্প টেক্সট আর লো-হ্যাসল ইউজ এই তিনে এটি দারুণ ভেলু ফর মানি।

৬. Canon Pixma E410

পজিটিভ দিকবাজেট ফ্রেন্ডলি প্রিন্টিং সুপার ক্লিয়ার ফোট প্রিন্টিং ইজি রিফিলিং সর্বোচ্চ ৬০  সিটস ইনপুট ক্যাপাসিটি
নেগেটিভ দিককিছুটা ভারিWindows 11 সাথে কম্পেটেবল না 

কেনো আমরা এটা পিক করলাম

যারা বাজেটের মধ্যে ডে টু ডে লাইফে খুব লো কস্টে ফটো প্রিন্টিং সার্পোট চান তারা একবার Canon Pixma E410  প্রিন্টারটি দেখতে পারেন। Canon Pixma E410  হচ্ছে রিফিলেবল ফটো প্রিন্টার, তাই লং-টার্ম ইউজে ইনক কস্ট খুব কম পড়ে। এর হাই DPI রেজোলিউশন ফটো আর কালার ডকুমেন্টকে বেশ ক্লিয়ার, ব্রাইট ও ডিটেইলড করে তোলে। কালার ও ব্ল্যাক দুটোতেই ডিসেন্ট স্পিড দেয়, তাই স্টুডেন্ট বা হোম সেটআপে নরমাল ডে-টু-ডে প্রিন্ট কাজ সহজে হয়। পেপার সাপোর্টের কথা বলতে গেলে ফটো, ব্রোশিউর কিংবা এনভেলপ সবই প্রিন্ট করা যায় । আর স্পিল-ফ্রি ইনক রিফিল সিস্টেম থাকায় নতুনদের জন্যও ইনক রিফিল করা খুব ইজি। যারা ফটো ও ডকুমেন্ট দুই ধরনের প্রিন্ট করেন, তাদের জন্য এটা ব্যালান্সড একটি চয়েস।

এটা কাদের জন্য বেস্ট হবে

স্টুডেন্ট, হোম ইউজার, ছোট ক্রিয়েটিভ ওয়ার্কর যারা প্রচুর কালার ডকুমেন্ট বা ফটো প্রিন্ট করেন তাদের জন্য টপ চয়েস। হেভি ডিউটি সার্কেলের  কারণে লং-টার্মে খুব ভেলু ফর মানি।

আরও পরুনঃ- ৫টি কম দামে ভালো গিজার

৭. Pantum P2500

পজিটিভ দিকবাজেট ফ্রেন্ডলি প্রিন্টিং সুপার ফাস্ট প্রিন্টিং স্পিড(২৩ ppm)লো মেইনটেনেন্সলাইট ওয়েট নেগেটিভ দিকনো প্রিন্টিং ফিচার সিঙ্গেল ফাংশন  প্রিন্টিং নো ফটোকপি বা স্কেন

কেনো আমরা এটা পিক করলাম

লাস্ট বাট নট লিস্ট, যারা বাজেটের মধ্যে সুপার ফাস্ট ও ব্লাক প্রিন্টিং  চান তাদের জন্য Pantum P2500 মডেলটি একটি বেস্ট চয়েস। Pantum P2500 মূলত সিম্পল কিন্তু খুবই ইকোনমিক মোন লেজার প্রিন্টার। এর ২৩ ppm প্রিন্টিং স্পিড সাদা-কালো প্রিন্টিং এ  ভালো পারফরম্যান্স দেয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই দৈনন্দিন ডকুমেন্ট প্রিন্টিং এ সময় বাঁচাবে। হাই DPI রেজোলিউশন থাকায় কালার আউটপুট Canon-এর কাছাকাছি অনেক ক্ষেত্রে এর থেকে বেটার ডিটেইলড ও শার্প। যারা কম খরচে লং-টার্ম প্রিন্টিং চান, তাদের জন্য Pantum এর P সিরিজ সবসময়ই ভালো এপ্রিয়েন্স দেয়। হালকা, কমপ্যাক্ট বডি, সহজ রিফিল, আর বিভিন্ন পেপার সাইজ সাপোর্ট থাকার কারণে এটা হোম–স্টুডেন্ট–ছোট অফিস  কিংবা মাদ্রাসা সব জায়গায় গো টু প্রিন্টিং সলিউশন।

এটা কাদের জন্য বেস্ট হবে

যারা লো কস্ট পার পেজ আর কনসিসটেন্ট কালার আউটপুট চান তাদের জন্যএটি চমৎকার চয়েস। ঘন ঘন নোট, অ্যাসাইনমেন্ট, কালার ডকুমেন্ট প্রিন্টে খুবই ইউজার ফ্রেন্ডলি।

পরিশেষে

শেষ কথা হলো একেকজনের চাহিদা একেকরকম। কেউ শুধু ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট ডকুমেন্ট প্রিন্ট করেন, কেউ আবার রেগুলার কালার বা ফটো প্রিন্টিং এ ডিপেন্ড করেন। তাই কোন মডেলটা আপনার জন্য বেস্ট হবে সেটা নির্ভর করে আপনার ব্যবহার, কাজের ফ্রিকোয়েন্সি আর কস্ট-ইফিশিয়েন্সির ওপর। এই ব্লগে যেসব প্রিন্টার নিয়ে কথা বলা হয়েছে, এগুলো সবই টেস্টেড, বাজেট-ফ্রেন্ডলি এবং ইউজার অরিয়েন্টেড যা বাস্তবে ব্যবহার করলে পার্থক্যটা আপনি বুঝতে পারবে। অ্যাপেল ব্যবহারকারীরাও সহজ কানেকশন আর স্মুথ এক্সপেরিয়েন্স পাবেন। এখন সিদ্ধান্ত আপনার, আপনি কি চান? স্পিড, লো কস্ট, নাকি কালার একুরেসি? নিজের প্রয়োজনটাই আগে ঠিক করলে প্রিন্টার চুস করা সহজ হবে। আশা করি এই গাইড  আপনার প্রিন্টার সিলেকশনকে  প্রসেস অনেক সহজ করে দেবে। আর এর পরে যদি কনফিউজড ফিল করেন, তাহলে অ্যাপল গেজেটস বিডির ২৪/৭ সাপোর্ট সেশনে জয়েন হতে পারেন।

Similar Posts